আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে পূর্বাঞ্চলের চার রাজ্যে ১৯টি অ্যাডভেঞ্চার কর্মসূচি আয়োজন করে ইন্ডিয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ফাউন্ডেশন। কলকাতায় সমাপনী অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা জানানো হয় ১৮০-র বেশি মহিলা অভিযাত্রীকে।

শেষ আপডেট: 8 March 2026 21:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে পূর্বাঞ্চল জুড়ে মহিলাদের অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসে উৎসাহিত করার এক অনন্য উদ্যোগের সমাপ্তি ঘটল কলকাতায়। রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ সকাল দশটা থেকে বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের রাধানাথ সিকদার–তেনজিং নোরগে ভবনে অবস্থিত WBMASF কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয় এই বিশেষ সমাপনী অনুষ্ঠান। ইন্ডিয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ফাউন্ডেশনের পূর্বাঞ্চলীয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে গত এক সপ্তাহ ধরে চলা বিভিন্ন অভিযানে অংশ নেওয়া মহিলা ক্রীড়াবিদ ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের সম্মান জানানো হয়।

মহিলাদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসে অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়েই এ বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে ঘিরে বড়সড় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি বিস্তৃত ছিল পূর্ব ভারতের চারটি রাজ্য—বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে। এক সপ্তাহ ধরে চলা এই কর্মসূচির আওতায় মোট ১৯টি আলাদা অভিযান সংগঠিত করা হয় এবং প্রতিটি অভিযানে অংশ নেন শুধুমাত্র মহিলা প্রতিযোগীরা। বিভিন্ন পেশা ও সামাজিক পরিমণ্ডল থেকে আসা নারীরা এই অভিযানে যোগ দিয়ে নিজেদের দক্ষতা এবং সাহসিকতার পরিচয় দেন।

এই বছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মূল ভাবনা ছিল “Give to Gain” বা ‘লাভের জন্য দান করুন’। সেই ভাবনার প্রতিফলন ঘটাতে অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচির মধ্যে ছিল ট্রেকিং, মাউন্টেন বাইকিং, সাইক্লিং, উপকূলীয় ট্রেকিং, কায়াকিং, রাফটিং, সাঁতার, দৌড়, রোলার স্কেটিং এবং রক ক্লাইম্বিংয়ের মতো নানা রোমাঞ্চকর ক্রীড়া কার্যক্রম। প্রকৃতি, শারীরিক সক্ষমতা এবং দলগত সাহসিকতার মেলবন্ধনে সাজানো এই অভিযানে অংশ নেন ১৮০ জনেরও বেশি মহিলা অংশগ্রহণকারী।

সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এই অভিযানে অংশ নেওয়া বহু মহিলা অ্যাডভেঞ্চারিস্ট। তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ এবং অভিযানের স্মৃতি ভাগ করে নেন উপস্থিত দর্শকদের সঙ্গে। বিভিন্ন রাজ্যে অনুষ্ঠিত অভিযানের নানা গল্প, সাফল্য এবং সংগ্রামের কথা শুনে উৎসাহিত হন অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রায় তিনশো মানুষ। এই সমাবেশ যেন এক ধরনের উদ্যাপন—নারীদের সাহস, উদ্যোগ এবং সীমা ভাঙার ইচ্ছাশক্তির উদ্যাপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একাধিক বিশিষ্ট অতিথি ও ক্রীড়াবিদ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য, ন্যাশনাল স্পোর্ট ক্লাইম্বিং কমিটির চেয়ারম্যান মানিক ব্যানার্জি, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্বতারোহণ বিষয়ক উপদেষ্টা দেবদাস নন্দী, ভারতের পরিচিত মহিলা ফুটবলার মহিমা খাতুন, বিশিষ্ট দূরপাল্লার সাঁতারু তেহরিনা নাসরিন এবং ক্রীড়াপ্রেমী এস. এস. নাসরিন। তাঁরা প্রত্যেকেই মহিলা ক্রীড়াবিদদের সাহসিকতা এবং অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক মহিলাকে এই ধরনের অভিযানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইন্ডিয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ফাউন্ডেশনের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য ও পূর্বাঞ্চলীয় শাখার চেয়ারম্যান দেবরাজ দত্ত জানান, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে আসা নারীদের নিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে পূর্বাঞ্চল জুড়ে দশটি ভিন্ন অ্যাডভেঞ্চার বিভাগের এত বড় কর্মসূচি সফলভাবে আয়োজন করতে পেরে তাঁরা অত্যন্ত গর্বিত। তাঁর কথায়, গত কয়েকদিনে বিপুল সংখ্যক মহিলা যে উৎসাহ নিয়ে এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন, তা আগামী দিনেও আরও বড় পরিসরে এই ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের অনুপ্রেরণা জোগাবে।

সমাপনী অনুষ্ঠান শেষ হলেও এই উদ্যোগের মূল বার্তা স্পষ্টভাবে রয়ে গেল। অ্যাডভেঞ্চার, সাহস আর নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের ক্ষেত্রে মহিলারাও সমান সক্ষম। সঠিক সুযোগ ও উৎসাহ পেলে তারা পাহাড়, নদী, সমুদ্র কিংবা কঠিন পথ— সবকিছুই জয় করতে পারে।
