আমদাবাদের ৮৭ বছরের মন্দাকিনী শাহ এবং তাঁর ছোট বোন উষা - ঠিক যেন ‘শোলে’ ছবির জয়-বীরু।

শেষ আপডেট: 19 November 2025 20:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যারা বাঁচতে জানে, তাদের কাছে বয়স আবার কোনও বাধা নাকি! আট হোক বা আশি, বেঁচে থাকার মানে তারা খুঁজে নিতে জানেন। এই যেমন ৮৭ বছরের মন্দাকিনী (87-year-old Ahmedabad woman)। জরার ভার তাঁর চাঞ্চল্যে খানিক ঝাঁকুনি এনেছে বটে কিন্তু মন এখনও তারুণ্যে ভরপুর। আমদাবাদের ৮৭ বছরের মন্দাকিনী শাহ (Mandakini Shah scooter story) এবং তাঁর ছোট বোন উষা - ঠিক যেন ‘শোলে’ ছবির জয়-বীরু (elderly woman Jai-Veeru Ahemdabad)।
দু’জনে আজও স্কুটারে চেপে ঘুরে বেড়ান শহরজুড়েই। বয়সের বাধা নয়, মনের স্বাধীনতাই পাথেয় মন্দাকিনীর। ৬২ বছর বয়সে প্রথমবার স্কুটার চালানো শেখেন তিনি। তার পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। আর তাই তাঁর গল্প আজ দেশজুড়ে ভাইরাল।
‘হিউম্যানস অফ বম্বে’ নামক এক সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্দাকিনী জানান, “মানুষ যখন জিজ্ঞেস করে, ৮৭ বছর বয়সে স্কুটার চালাই কেন… আমি শুধু বলি, 'কেনই বা নয়'?”
ছ’ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে বড় হওয়ায় দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই চেপে বসেছিল ছোটবেলা থেকেই। দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়তে দেখেছেন বাবাকে। সেই বাবাই যখন স্বাধীনতার পর ব্যবসা শুরু করতে চেয়েছিলেন, বাধা হয়ে দাঁড়ায় টাকাপয়সার অভাব। মন্দাকিনী বলেন, “আমাদের বাড়িতে টাকার টানাটানি সবসময়ই ছিল। মাকে প্রতিদিন খাটতে দেখেই শিখেছিলাম - নিজেকে বিশ্বাস করতে হয়, নিজের পায়ে দাঁড়াতেও হবে।”
মাত্র ১৬ বছর বয়সে ‘বাল মন্দির’-এ মন্টেসরি টিচার হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। ইংরেজিতে দুর্বল ছিলেন, কিন্তু কর্মক্ষমতায় ছিল না কোনও ঘাটতি। পরে সামাজিক কাজে যুক্ত হন। মহিলাদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে যেতে হত গ্রামে, পঞ্চায়েতে, মহিলা সমিতিতে। আর সেই পথ চলতেই শেখেন প্রথম মোপেড, তারপর জিপ, আর শেষমেশ একটা সেকেন্ড হ্যান্ড স্কুটার পান - বয়স তখন ৬২ ছুঁয়েছে। কিন্তু তাতে কী!
আজও সেই স্কুটারেই শহর ঘুরে বেড়ান দুই বোন। কোনও দিন হয়তো বাজার করতে বেরলেন, কোনও দিন শুধুই বা ঘুরতে। মন্দাকিনীর জীবনের সহজ নিয়ম, “স্বাধীনভাবে বাঁচো। যতটা পরিশ্রম করেছি, তার চেয়েও বেশি আনন্দ দিয়ে বাঁচো।”
এত বছরে তাঁকে বহুবার প্রশ্ন করা হয়েছে, বিয়ে করলেন না কেন? কেউ কেউ আবার ধরে নিতেন, তিনি নিশ্চয়ই বিধবা। সমাজের চোখে যেমন কোনও মহিলার স্বামী নেই মানেই সে যেন এক ‘অসম্পূর্ণ গল্প’। মন্দাকিনীর সোজাসাপ্টা উত্তর, তাঁর জীবনই তো প্রতিদিন নিজের মতো করে লেখা গল্প। হ্যাঁ, বিয়ের ইচ্ছে ছিল, কিন্তু জীবন অন্য পথ দেখিয়েছে, তিনি সেখানেই এগিয়ে গিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া
মন্দাকিনীর আত্মবিশ্বাস এবং স্বাধীনতার গল্পে নেটিজেনরা মুগ্ধ। একজন লিখেছেন, “ওয়াও ওয়াও, আপনি অনুপ্রেরণা দিদা!” আরেকজনের মন্তব্য, “স্রোতের উল্টো দিকে চলা এক গল্প - নির্ভীক, মুক্ত আর চিরযৌবনা। শরীরের বয়স থামে, মনের নয়। আপনি দেখিয়েছেন - চলতে থাকো, খুঁজতে থাকো, নতুন করে বাঁচতে থাকো।” এক নেটিজেন আবার সহজভাবেই লিখেছেন, “লাইফটা উপভোগ করুন, দিদা।”
৮৭ বছর বয়সেও দু’চাকার স্কুটারে শহর চষে বেড়ানো মন্দাকিনী যেন এটাই মনে করিয়ে দেন, স্বাধীনতা একটা বয়সে থেমে থাকে না। বরং বয়সকে মনের কাছাকাছি আসতে না দেওয়াটাই আসল স্বাধীনতা।