হুগলির ৬৭ বছরের মহিলার অঙ্গদানে নতুন জীবন পেলেন পাঁচজন। মানবতার এই দৃষ্টান্তে কুর্নিশ গোটা রাজ্যের।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 13 November 2025 11:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাসপাতালের করিডোরে তখন নেমে এসেছে এক নিস্তব্ধ শোকের ছায়া। প্রিয়জনের চলে যাওয়ার শোকে চারিদিকে হাউহাউ করে কান্না। কিন্তু ঠিক সেই বিষাদের মুহূর্তেও হুগলির এক পরিবারের নেওয়া সিদ্ধান্ত যেন মানবতার এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল। ৬৭ বছর বয়সী সেই মহিলা, তাঁর দান করা অঙ্গেই প্রাণ বাঁচল পাঁচজন অসহায় মানুষের।
ওই মহিলা হুগলির বাসিন্দা। ১০ নভেম্বর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের পর কলকাতার সিএমআরআই (CMRI), সিকে বীরলা হাসপাতালের নিউরো ইনটেনসিভ কেয়ারে ভর্তি হন। ১১ নভেম্বর চিকিৎসকেরা তাঁকে ব্রেন-ডেড ঘোষণা করেন। ঠিক তখনই পরিবারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত।
সিএমআরআই হাসপাতালের উদ্যোগে ওই মহিলার চোখ, কিডনি ও লিভার সংগ্রহ করা হয়। হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ দল নিয়ম মেনে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে এবং অঙ্গগুলি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করে পাঠায়।
হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই মহিলার অঙ্গদানের ফলে পাঁচ জন রোগী নতুন জীবন পেয়েছেন। তাঁর এই মহান উদ্যোগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সিএমআরআই কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে।
সিএমআরআই, সিকে বিড়লা হাসপাতালের ইউনিট হেড সোমব্রতা রায় বলেন, “পরিবারের এই সাহসী সিদ্ধান্তে আমরা কৃতজ্ঞ। প্রিয়জনকে হারানোর শোকে থেকেও তাঁরা অন্যদের জীবন বাঁচানোর পথ বেছে নিয়েছেন, এটা সত্যিই মানবতার এক অনন্য উদাহরণ।”
সিএমআরআই হাসপাতাল জানিয়েছে, তারা জাতীয় অঙ্গদান আন্দোলনের পাশে থাকবে। এই মহান কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সকলকে আহ্বান জানিয়েছে, জীবনের পরেও যেন নিজের অঙ্গ দান করে অন্যদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা প্রত্যেকেই করে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, অঙ্গদানের মাধ্যমে একজন মানুষ অমর হয়ে থাকতে পারে। যেখানে শেষ হয় এক জীবন, সেখানেই শুরু হয় আরেক জীবনের নতুন পথচলা।