ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মহলে মতভেদ তৈরি হয়েছে। একদিকে যেখানে পড়ুয়াদের একাংশ একে ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি ছিল শুধুমাত্র পরীক্ষাসংক্রান্ত নিয়মের অংশ। বিষয়টি ঘিরে আলোচনা এখনও অব্যাহত।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 27 December 2025 12:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবার সংবাদ শিরোনামে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)। না, কোনও ইতিবাচক কারণের জন্য নয়, বরং স্নাতক স্তরের পরীক্ষাকে (Exam) ঘিরে বিতর্কের কারণে। ইংরেজি অনার্সের পরীক্ষার (English Honours Exam) সময় এক ছাত্রীকে হিজাব খুলতে বলা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই ছাত্রী এই ঘটনাকে ‘ইসলামোফোবিয়া’র (Islamophobia) প্রকাশ বলে দাবি করেছেন।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই ছাত্রী জানান, পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত বিভাগীয় প্রধান (HOD) তাঁকে হিজাব (Hijab) খুলতে বলেন এবং ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে ‘অনগ্রসর সম্প্রদায়’ (Oppressed Community) বলে মন্তব্য করা হয়, যা তিনি অপমানজনক বলে মনে করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য, এটি কোনও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক ঘটনা নয়। তাদের দাবি, পরীক্ষার সময় নিরাপত্তার স্বার্থে ইলেকট্রনিক ডিভাইস (Electronic Device) লুকোনো আছে কি না, তা যাচাই করার জন্যই এই পরীক্ষা করা হচ্ছিল। তবে প্রশাসনের তরফে স্বীকার করা হয়েছে, বিষয়টি আরও সংবেদনশীল ও ভিন্নভাবে সামলানো যেত।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। সমাবর্তন অনুষ্ঠানের দিন একাংশ পড়ুয়া প্রতিবাদে অংশ নেন। তাঁদের হাতে দেখা যায় পোস্টার - No place for Islamophobia।
ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মহলে মতভেদ তৈরি হয়েছে। একদিকে যেখানে পড়ুয়াদের একাংশ একে ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি ছিল শুধুমাত্র পরীক্ষাসংক্রান্ত নিয়মের অংশ। বিষয়টি ঘিরে আলোচনা এখনও অব্যাহত।
কিন্তু বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক থামেনি। সূত্রের খবর, বছর শেষেই উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে আসবে রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারটিকে বিতর্কিত বলে মানছে না। ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দাবি, স্বচ্ছ পরীক্ষার স্বার্থেই তল্লাশি চালানো হয়েছিল। এমনকী সেই সময় ছাত্রীটি কোনও আপত্তি তোলেননি বরং নিজেই হিজাব খুলে দেখিয়েছিলেন।
যদিও এই ঘটনায় কোথাও কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। কিন্তু সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যে ঘটনা ঘটে তাতে আরও জলঘোলা বেড়েছে।