৬৮তম সমাবর্তনে যোগ দিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। আইসিসি নির্বাচন, পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগে সমাবর্তনের দিন বিক্ষোভে এসএফআইয়ের।

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 24 December 2025 13:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমাবর্তনের দিনই উত্তাল যাদবপুর। ৬৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল (Governor) সিভি আনন্দ বোস (C V Ananda Bose)। বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) ওপেন এয়ার থিয়েটারে পৌঁছন তিনি। উপস্থিতির খবর ছড়াতেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করে এসএফআই (SFI) ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা। সমাবর্তনের আবহে ফের পড়ুয়া অসন্তোষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যাদবপুর।
থিয়েটারের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীরা একাধিক দাবি তোলেন। এসএফআই নেত্রী সঙ্গীতা কুণ্ডু (Sangita Kundu) জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইসিসি (Internal Complaints Committee) নির্বাচন না হওয়ায় পড়ুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ জমছে। তাঁর কথায়, “রাজ্যপাল যেহেতু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য, তাই তিনি সমাবর্তনে যোগ দিতে আসছেন জেনেই আমরা সরাসরি তাঁর সামনে আমাদের দাবি তুলে ধরেছি।”
আইসিসি নির্বাচন ছাড়াও পড়ুয়াদের অভিযোগের তালিকায় রয়েছে পরিকাঠামোগত একাধিক সমস্যা। সঙ্গীতা কুণ্ডুর দাবি, যাদবপুর পাঁচতারা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত হলেও বাস্তবে ক্লাসরুম ও ল্যাবের পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। অনেক বিভাগেই নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না, ল্যাবে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই। এর ফলে পড়াশোনায় মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়ছেন ছাত্রছাত্রীরা। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাও তুলে ধরেন তাঁরা। বহু জায়গায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী নেই বলে অভিযোগ, ফলে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন পড়ুয়ারা।
তবে বিক্ষোভ সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনেই এগিয়েছে সমাবর্তনের কর্মসূচি। আচার্য সিভি আনন্দ বোসের উপস্থিতিতেই কোর্ট মিটিং (Court Meeting) অনুষ্ঠিত হয়। এরপর নিয়ম অনুযায়ী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়। রাজ্যপাল দেখা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনীদের সঙ্গেও। সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর শুরু হয় ৬৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান।
এনিয়ে রাজ্যপাল বলেন, 'গণতান্ত্রিক দেশে মনের কথা বলার স্বাধীনতা পড়ুয়াদের রয়েছে। আন্দোলনের অধিকার রয়েছে তাদের।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তাঁর মত, 'বাংলায় সবচেয়ে বড় দুটো সমস্যা হল দুর্নীতি আর হিংসা। দুঃখের বিষয় কলেজ ক্যাম্পাসও এর থেকে দূরে নয়। আমি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি নিয়ে কথা চলছে। যাতে বাইরের কেউই কখনও ঢুকতে না পারে ক্যাম্পাসে।'