তাঁর দাবি, দর্শকদের কাটা টিকিটের সমস্ত টাকা ফেরত দেওয়া উচিত।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 15 December 2025 13:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের বিজয় দিবসের প্রাক্কালে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা মঞ্চেও উঠে এল যুবভারতী কাণ্ড (Yuva Bharati)। সোমবার কলকাতার লোকভবনে রাজ্যপালের উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সশ্রদ্ধ সংবর্ধনা জানানো হয়। সেই মঞ্চ থেকেই যুবভারতীতে মেসি-ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের গ্রেফতার ও গোটা ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন রাজ্যপাল (Governor CV Ananda Bose)।
ভাষণের শুরুতে রাজ্যপাল বিজয় দিবসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেন, “বিজয় দিবস শুধু একটি তারিখ নয়। এটি সাহস, আত্মত্যাগ এবং অন্যায়ের উপর ন্যায়ের জয়ের প্রতীক। ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্বের সামনে জন্ম নিয়েছিল এক স্বাধীন বাংলাদেশ, যা মানুষের অপরাজেয় সংকল্পের ফল।”
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে যুবভারতী কাণ্ড প্রসঙ্গে রাজ্যপাল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সেদিন যুবভারতীতে যা ঘটেছে, তা হওয়া উচিত ছিল না। ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ এর সঙ্গে জড়িয়ে। আশ্চর্যের বিষয়, এত বড় অনুষ্ঠানের জন্য কোনও নির্দিষ্ট নিয়মাবলী ছিল না। এটা নিছক ম্যানেজমেন্ট ফেলিওর নয়, সম্পূর্ণ সিস্টেম ফেলিওর।” তাঁর দাবি, দর্শকদের কাটা টিকিটের সমস্ত টাকা ফেরত দেওয়া উচিত।
শুধু তাই নয়, গ্রেফতারের প্রশ্নেও কড়া অবস্থান নেন রাজ্যপাল। উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটা হিমশৈলের চূড়া মাত্র। এর সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁদের সকলকেই গ্রেফতার করতে হবে।” উল্লেখ্য, শনিবার শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রাজ্যপাল আরও বলেন, “স্টেডিয়াম পাবলিক প্রোপার্টি। যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট অফিসারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” তাঁর মতে, এই ঘটনার নেপথ্যে আরও অনেকে জড়িত এবং তাঁদের বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের (Arup Biswas) ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে রাজ্যপাল জানান, বিষয়টি তিনি সাংবিধানিক প্রধানদের গোচরে আনবেন।
প্রসঙ্গত, শনিবার যুবভারতীতে মেসিকে দেখার আশায় হাজার হাজার দর্শক মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছিলেন। কিন্তু উদ্যোক্তাদের লোকজন, মন্ত্রী ও প্রশাসনিক কর্তাদের ঘিরে রাখার জেরে দর্শকাসন থেকে মেসিকে কার্যত দেখা যায়নি। ঠেলাঠেলিতে বিরক্ত মেসিও নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছাড়েন। এরপরই ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চালায়। সেই ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি।