বস্তুত, বছরের শুরুতেই পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে।
.jpeg.webp)
শুভেন্দু অধিকারী, কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 2 February 2026 14:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক নেতা বা তাঁদের গাড়িতে কোনও ভাবেই যাতে হামলা না হয়, তা সর্বতোভাবে নিশ্চিত করতে হবে রাজ্য সরকারকে, সোমবার স্পষ্ট নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের (Kolkata High Court) প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের।
বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দায়ের করে হেনস্থা করা হচ্ছে, তাঁদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে এবং নানা ভাবে বিড়ম্বনায় ফেলা হচ্ছে— এই অভিযোগে রাজ্যের বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন শুভেন্দু অধিকারী এবং এক বিজেপি বিধায়ক। সেই মামলার মধ্যেই কিছু দিন আগে চন্দ্রকোনায় (Chandrakona) শুভেন্দুর গাড়িতে হামলার ঘটনার প্রসঙ্গ ওঠে।
অভিযোগ, ওই ঘটনার পর উল্টে শুভেন্দু ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধেই মিথ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই এফআইআর খারিজের দাবিতে জনস্বার্থ মামলার মধ্যেই আলাদা করে আবেদন করেন বিরোধী দলনেতা। এর আগেই ওই মামলায় শুভেন্দুকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল হাইকোর্ট।
এ দিন মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে রাজ্যের পক্ষ থেকে শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। সেই আবেদনের বিরোধিতা করে শুভেন্দুর আইনজীবী জানান, এই সময়ের মধ্যে নতুন করে যেন কোনও বিরোধী নেতা হেনস্থার শিকার না হন, সে বিষয়ে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ প্রয়োজন। রাজ্য আপত্তি তুললেও আদালত তা মানেনি। ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, ভবিষ্যতে কোনও বিরোধী নেতা বা তাঁদের গাড়ির উপর যাতে কোনও রকম হামলা না হয়, সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সম্পূর্ণ দায় রাজ্য সরকারের।
বস্তুত, বছরের শুরুতেই পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। বিজেপি নেতার অভিযোগ ছিল, বাঁশ ও লাঠি হাতে একদল তৃণমূল কর্মী ও সমর্থক তাঁর গাড়ির উপর চড়াও হয়েছিলেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে এই উত্তেজনা চললেও পুলিশ এগিয়ে আসেনি বলে দাবি করা হয়। ঘটনার প্রতিবাদে শুভেন্দু অধিকারী চন্দ্রকোনা রোড পুলিশ ফাঁড়িতে ঢুকে অবস্থানে বসেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি ছিল, যতক্ষণ না অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, ততক্ষণ তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন সন্ধ্যায় পুরুলিয়ায় একটি জনসভা সেরে নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী ফিরছিলেন। তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য আগেই বিজেপি কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়িয়েছিলেন। ফেরার পথে গড়বেতা থানার অন্তর্গত চন্দ্রকোনা রোড বাজারের কাছে হঠাৎ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখন সময় ছিল রাত প্রায় সাড়ে ৮টা।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিজেপি নেতার কনভয় চৌরাস্তা পার হওয়ার আগেই তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা পথ আটকে দাঁড়ান। এরপর লাঠি ও বাঁশ দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর গাড়িতে আঘাত করা হয়। দু’পক্ষের মধ্যে স্লোগান ও পাল্টা স্লোগান শুরু হয়। অভিযোগ করা হয়, প্রকাশ্য রাস্তায় দীর্ঘ সময় ধরে এই সংঘর্ষ চললেও পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। বরং অভিযোগ জানাতে গেলে উল্টে শুভেন্দু ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধেই মিথ্যে মামলা দায়ের করা হয় বলে অভিযোগ তোলে বিজেপি। তারপরই এফআইআর খারিজের দাবিতে জনস্বার্থ মামলার মধ্যেই আলাদা করে আবেদন করেন বিরোধী দলনেতা। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি।