
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 15 January 2025 15:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে নিষিদ্ধ স্যালাইন দেওয়ার কারণে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। আরও চার প্রসূতি অসুস্থ। তাঁদের মধ্যে তিনজন এই মুহূর্তে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে তাঁদের শারীরিক অবস্থা কেমন সে ব্যাপারে অবগত করেছেন হাসপাতালের সুপার। জানান, কেউই আপাতত স্থিতিশীল নয় তবে মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শ মেনে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
স্যালাইন-কাণ্ডে প্রসূতি মামনি রুইদাসের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে ‘মাল্টি অরগ্যান ফেলিওর’ এবং ‘সেপটিক শক’-এর কথা বলা হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই কাঠগড়ায় রিঙ্গার্স ল্যাকটেট (আরএল) স্যালাইন। সেটি পেয়েছিলেন বাকি তিন প্রসূতি মাম্পি সিং, নাসরিন খাতুন এবং মিনারা বিবি। তাঁদের চিকিৎসা বর্তমানে চলছে এসএসকেএম হাসপাতালে।
বুধবার হাসপাতালের সুপার সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ২ জন সিসিইউ এবং একজন আইটিইউতে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে মিনারা বিবি এবং মাম্পি সিং সিসিইউতে ছিলেন। আর নাসরিন খাতুন আইটিইউতে। তবে এখন মাম্পি সিংকে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। আর নাসরিন খাতুনকে ভেন্টিলেশন থেকে বের করার ট্রায়াল চলছে। যদিও এখনও ওঁর ভেন্টিলেশন চলছে। অন্যদিকে, মিনারা বিবির অক্সিজেন সাপোর্ট লাগছে। একটা বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তিনজনের শারীরিক অবস্থাই স্থিতিশীল নয়। তিনজনেরই ডায়ালিসিস দরকার হচ্ছে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্য তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে। তাঁদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনের দোসর অক্সিটোসিনও। এই অক্সিটোসিনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলেই প্রসূতিদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। সাড়ে পাঁচ পাতার রিপোর্টে এও নাকি বলা হচ্ছে যে, কোনও প্রোটোকল না মেনেই পাঁচ রোগীকে অক্সিটোসিনের হাই ডোজ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত ১০ ইউনিটের বদলে সবাইকে ১৫ থেকে ২৫ ইউনিট অক্সিটোসিন দেওয়া হয়। যার কারণে হু হু করে রোগীদের রক্তচাপ কমে যায়। ফলে এই ঘটনা।
এদিকে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ জানিয়েছেন, প্রসূতিদের চিকিৎসার সময় প্রোটোকল মানা হয়নি। অস্ত্রোপচারের সময় সিনিয়র চিকিৎসকের উপস্থিতি থাকা উচিত ছিল, যা ঘটেনি। গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেই হুঁশিয়ারি তাঁর।