ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মেগা জনসভার (PM Narendra Modi Mega Rally) দিনেই রক্তারক্তিকাণ্ড ঘটে গেছে কলকাতার গিরীশ পার্কে (Kolkata Girish Park)। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার (Sashi Panja) বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা, ভাঙচুর, দলীয় কর্মীদের মারধর এমনকি মন্ত্রীর উপরও আক্রমণের চেষ্টার অভিযোগ বিজেপির কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

শশী পাঁজার বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা
শেষ আপডেট: 14 March 2026 23:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মেগা জনসভার (PM Narendra Modi Mega Rally) দিনেই রক্তারক্তিকাণ্ড ঘটে গেছে কলকাতার গিরীশ পার্কে (Kolkata Girish Park)। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার (Sashi Panja) বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা, ভাঙচুর, দলীয় কর্মীদের মারধর এমনকি মন্ত্রীর উপরও আক্রমণের চেষ্টার অভিযোগ বিজেপির কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এখনও অবধি চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তৃণমূলের (TMC) অভিযোগ, ব্রিগেডগামী একটি বাস থেকে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা নেমে মন্ত্রীর বাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়তে থাকে। বাড়ির জানালার কাচ ভাঙা এবং দরজার ক্ষতি হয়। পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছে পুলিশও। শশী পাঁজার অভিযোগ, 'পরিকল্পনা করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
শনিবার সকালে উত্তর কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিজেপি কর্মীরা মিছিল করে ব্রিগেডের (Brigade) দিকে যাচ্ছিলেন। গিরিশ পার্কে মন্ত্রীর বাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল যাওয়ার সময় উত্তেজনার সূত্রপাত। তৃণমূলের অভিযোগ, ব্রিগেডে (Brigade) যাওয়ার নাম করে বিজেপি আশ্রিত ‘দুষ্কৃতীরা’ পরিকল্পিতভাবে শশী পাঁজার বাসভবনকে নিশানা করে। ইটের আঘাতে বাড়ির জানালার কাচ ও সদর দরজার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি জোড়াফুল শিবিরের।
পাল্টা বিজেপির অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ মিছিলে বাধা দিতে তৃণমূল কর্মীরা (TMC workers) আগে থেকেই মন্ত্রীর বাড়ির সামনে জমায়েত করেছিল। তাদের দাবি, পুলিশ নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে ছিল এবং শাসকদলের কর্মীরাই মিছিল লক্ষ্য করে প্রথম পাথর ছোড়ে। যার জেরে বিজেপির উত্তর কলকাতার সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ আহত হন।
ঘটনার খবর পেয়ে কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশ ও বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেই খণ্ডযুদ্ধ বাধে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকার পুলিশ মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে। ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় সন্ধ্যায় সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
কলকাতা পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে। সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে তল্লাশি অভিযান চলছে।
এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে অভিষেক (Abhishek Banerjee) লিখেছেন, "এই ঘটনা শুধুমাত্র একজন মন্ত্রীর উপর হামলা নয়, বরং বাংলার নারীদের উপর আক্রমণের একটি নিন্দনীয় দৃশ্য। পরিকল্পিতভাবে অশান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে।"
এদিনের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক ২০১৯ সালের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছেন। সেই সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভার পর কলকাতায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। তাঁর দাবি, সেই ঘটনার মতোই এবারও বিজেপির উস্কানিমূলক রাজনীতির ফলেই অশান্তি তৈরি হয়েছে, এমনটাই অভিযোগ অভিষেকের।