এবার গঙ্গাসাগর মেলার জন্য প্রতিদিন চলবে মোট ২৩ জোড়া EMU ট্রেন। এর মধ্যে শিয়ালদহ থেকে নামখানা ও কাকদ্বীপ রুটে চলবে ১০ জোড়া বিশেষ মেলা ট্রেন। আগের বছরের তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে না বলেই রেলের আশা।

গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬
শেষ আপডেট: 3 January 2026 19:38
দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬ উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ করতে বড় প্রস্তুতি নিল পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে শিয়ালদহের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM) রাজীব সাক্সেনা মেলার জন্য নেওয়া বিশেষ ব্যবস্থার কথা জানান। রেল সূত্রে খবর, আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এই বিশেষ ব্যবস্থা চালু থাকবে। মেলা চলাকালীন কাকদ্বীপে সারাক্ষণ নজরদারির জন্য বিশেষ মেলা অফিসারও থাকবেন।
ট্রেন বাড়ল অনেকটাই
এবার গঙ্গাসাগর মেলার জন্য প্রতিদিন চলবে মোট ২৩ জোড়া EMU ট্রেন। এর মধ্যে শিয়ালদহ থেকে নামখানা ও কাকদ্বীপ রুটে চলবে ১০ জোড়া বিশেষ মেলা ট্রেন। আগের বছরের তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে না বলেই রেলের আশা।

মেলা যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম
মেলা যাত্রীদের সুবিধার জন্য শিয়ালদহ স্টেশনের ১৫ ও ১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্ম এবং কাকদ্বীপ স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম শুধুমাত্র গঙ্গাসাগর যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। প্রতিটি ট্রেনে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ জন যাত্রী ওঠানামা করতে পারবেন। ভিড় সামলাতে প্ল্যাটফর্মে থাকবেন বিশেষ কর্মীরা।
ভিড় এড়াতে একমুখী চলাচল ব্যবস্থা
শিয়ালদহ স্টেশনে গঙ্গাসাগরগামী যাত্রীদের প্রবেশ ও বেরোনোর জন্য আলাদা পথ করা হয়েছে। এতে যাত্রীদের ভিড় একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খাবে না। কাকদ্বীপেও একইভাবে ট্রেন ওঠানামার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হোল্ডিং এরিয়া ও টিকিটের সুবিধা
শিয়ালদহ, কাকদ্বীপ ও নামখানা—এই তিন জায়গায় বড় হোল্ডিং এরিয়া তৈরি করা হয়েছে। এখানে যাত্রীরা বসে বিশ্রাম নিতে পারবেন। একই জায়গায় মিলবে টিকিট কাটার সুবিধা। পর্যাপ্ত আলো, পানীয় জল ও শৌচালয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার
মেলা চলাকালীন পুরো রুটে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরপিএফ ও অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মীরা থাকবেন স্টেশন ও ট্রেনে। সিসিটিভি ক্যামেরায় নজরদারি চলবে সারাক্ষণ। এছাড়া শিয়ালদহ, কাকদ্বীপ ও নামখানায় থাকবে মেডিক্যাল ক্যাম্প, চিকিৎসক, অ্যাম্বুল্যান্স এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা।
সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবকরা
যাত্রীদের সাহায্যের জন্য ‘মে আই হেল্প ইউ’ ডেস্ক থাকবে। বিভিন্ন ভাষায় ঘোষণা করা হবে। সিভিল ডিফেন্স, স্কাউটস ও সেন্ট জন অ্যাম্বুল্যান্স ব্রিগেডের স্বেচ্ছাসেবকরাও মাঠে থাকবেন।
এই বিষয়ে DRM রাজীব সাক্সেনা জানান, গঙ্গাসাগর মেলা রেলের কাছে শুধু একটি দায়িত্ব নয়, এটি একটি পবিত্র কাজ। পুণ্যার্থীরা যাতে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাত্রা করতে পারেন, তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি সকল যাত্রীকে ধৈর্য ধরতে ও কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন।