কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঘিরে এক্স কর্পকে কড়া নোটিস পাঠাল কেন্দ্র। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট না দিলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি।

এক্স ও ইলন মাস্ক
শেষ আপডেট: 2 January 2026 20:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অপব্যবহার নিয়ে এবার কড়া কেন্দ্রীয় সরকার। সামাজিক মাধ্যম সংস্থা এক্স কর্প (X Corp, প্রাক্তন টুইটার)-কে কড়া নোটিস পাঠাল তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)।
অভিযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০ (Information Technology Act, 2000) এবং আইটি রুলস, ২০২১ (IT Rules, 2021)-এ নির্ধারিত আইনগত ‘ডিউ ডিলিজেন্স’ মানছে না সংস্থাটি। সেই কারণেই ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট (Action Taken Report বা ATR) জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।
মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এক্স-এর এআই পরিষেবা গ্রোক (Grok)-এর মাধ্যমে অশ্লীল, অশোভন ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট তৈরি ও ছড়ানোর একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে মহিলাদের লক্ষ্য করে এই ধরনের কনটেন্ট তৈরি হওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছে সরকার। নোটিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে, গ্রোকের এআই ক্ষমতা ব্যবহার করে কৃত্রিম ছবি ও ভিডিও বানিয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং মর্যাদা লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
এই ধরনের কনটেন্ট শুধুই বেআইনি নয়, সমাজে যৌন হেনস্থাকে ‘স্বাভাবিক’ করে তোলার প্রবণতাকেও উসকে দিচ্ছে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। যা সরাসরি আইনি সুরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে। তাই এক্স কর্পকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, গ্রোকের প্রযুক্তিগত কাঠামো এবং প্রশাসনিক নীতির (technical and governance framework) পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে বেআইনি কনটেন্ট তৈরি বা ছড়ানো রোখা যায়।
নোটিসে আরও বলা হয়েছে, গ্রোকের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবহারকারী নীতি (user policy) কার্যকর করতে হবে। নিয়ম ভাঙলে অ্যাকাউন্ট সাসপেনশন বা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার মতো কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি, যে সব আপত্তিকর কনটেন্ট ইতিমধ্যেই রয়েছে, সেগুলি অবিলম্বে সরাতে হবে, তবে কোনও ভাবেই প্রমাণ নষ্ট (tampering of evidence) করা যাবে না।
৭২ ঘণ্টার মধ্যে জমা দিতে হবে এমন রিপোর্টে কী কী জানতে চাওয়া হয়েছে?
মন্ত্রক স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে, নির্দেশ অমান্য হলে আইটি আইনের ৭৯ ধারার (Section 79 of IT Act) অধীনে ‘সেফ হারবার’ সুবিধা প্রত্যাহার করা হতে পারে। পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), নারীর অশালীন উপস্থাপন প্রতিরোধ আইন (Indecent Representation of Women Act) এবং পকসো আইন (Protection of Children from Sexual Offences Act)-এর আওতায় ফৌজদারি পদক্ষেপও হতে পারে।
জানা গেছে, এই নোটিসের কপি পাঠানো হয়েছে একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রক, কমিশন ও রাজ্য প্রশাসনের কাছে। সব মিলিয়ে স্পষ্ট, এআই-এর আড়ালে অশ্লীলতা ও হেনস্থার বিরুদ্ধে এবার সমন্বিত এবং কঠোর অভিযান শুরু করতে চলেছে কেন্দ্র।