উৎসব উপলক্ষে প্রকাশিত হয় অংশুমান কর সম্পাদিত বই ‘অন্ধের সমাজে একা: নীরেন্দ্রনাথের কবিতাযাপন’। গ্রন্থটির প্রকাশক ছিলেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিরূপ সরকার। পাশাপাশি ‘নীরেন্দ্রনাথ: পিতা ও কবিতা’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন কবির দুই কন্যা সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় ও শিউলি সরকার।

নীরেন্দ্রনাথের কবিতাযাপন বই উদ্বোধন
শেষ আপডেট: 6 January 2026 13:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কনকনে শীতের মধ্যেই কবিতার (Poetry) উষ্ণতায় ভরে উঠল কলকাতা (Kolkata)। ২ থেকে ৪ জানুয়ারি ২০২৬, কলকাতা ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আর্টস, লিটারেচার অ্যান্ড কালচারে (International Foundation For Arts, Literature and Culture) অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গভীর নির্জন পথের গদ্যপদ্যপ্রবন্ধ আয়োজিত চতুর্থ জাতীয় কবিতা উৎসব (Poetry Festival)। তিন দিনের এই সাহিত্যসম্ভারে বাংলা-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের নানা ভাষার দুই শতাধিক কবি অংশ নেন।
উৎসবের উদ্বোধন করেন কালীকৃষ্ণ গুহ (Kalikrishna Guha)। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রণজিৎ দাস। এবারের উৎসবে গদ্যপদ্যপ্রবন্ধ সম্মাননা ২০২৫ প্রদান করা হয় তামিল ভাষার কবি সবরিনাথন এবং বাংলা ভাষার কবি চৈতালী চট্টোপাধ্যায় ও দিলীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সম্মাননা তুলে দেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, সনেট মণ্ডল ও সমীরণ চট্টোপাধ্যায়।

উদ্বোধন করছেন কালীকৃষ্ণ গুহ
উৎসব উপলক্ষে প্রকাশিত হয় অংশুমান কর সম্পাদিত বই ‘অন্ধের সমাজে একা: নীরেন্দ্রনাথের কবিতাযাপন’। গ্রন্থটির প্রকাশক ছিলেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় (Alapan Bandopadhayay) ও অভিরূপ সরকার (Abhirup Sarkar)। পাশাপাশি ‘নীরেন্দ্রনাথ: পিতা ও কবিতা’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন কবির দুই কন্যা সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় ও শিউলি সরকার।
কবিতাপাঠের পাশাপাশি উৎসবের তিন দিনে ছিল একাধিক আলোচনা ও বিতর্কসভা। ‘সভার মতে, দাদা ও দিদিরা বাংলা কবিতার ক্ষতি করছেন’ - এই বিতর্কে অংশ নেন সব্যসাচী মজুমদার, আত্রেয়ী চক্রবর্তী, সেলিম মল্লিক ও শুভ্রা মুখোপাধ্যায়। সভামুখ্য ছিলেন তুষার পণ্ডিত।
আরেকটি বিতর্কে - ‘কবিদের দাপটে এখন এ-বাংলায় গদ্যসাহিত্য কোণঠাসা’, মতবিনিময় করেন কণিষ্ক ভট্টাচার্য, শমীক ঘোষ, অদিতি বসু রায়, তানিয়া চক্রবর্তী ও শুদ্ধেন্দু চক্রবর্তী। তিনদিনের উৎসবে আয়োজন করা হয় আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা।
‘আন্তর্জাতিক আঙিনায় পুরস্কার, অনুবাদ ও ভারতীয় কবিতা’ বিষয়ে আলোচনায় ছিলেন কমলাকর ভাট, সবরিনাথন, রাজর্ষি পত্রনবীশ ও যশোধরা রায়চৌধুরী। ‘সংবাদ মূলত কাব্য’ আলোচনায় অংশ নেন মৃদুল দাশগুপ্ত, বৈজয়ন্ত চক্রবর্তী, অনির্বাণ ভট্টাচার্য ও ভাস্কর লেট - সমন্বয়ে অভিমন্যু মাহাত। আর বাংলা কবিতার বইয়ের বাজার ও বিপণন নিয়ে আলোচনায় ছিলেন শুভঙ্কর দে, পলাশ বর্মণ, সুদীপ্তা সর্বজ্ঞ, পার্থজিৎ চন্দ ও প্রসূন মজুমদার।
বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি, উর্দু ও হিন্দি ভাষার কবিদের কণ্ঠে কবিতাপাঠও ছিল উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। কবিতা পাঠ করেন নিশি পুলুগুর্থা, মৈত্রেয়ী ভট্টাচার্য চৌধুরী, আহমেদ মেরাজ, ফৌযিয়া আখতার, মৃত্যুঞ্জয় সিং, বিমলেশ ত্রিপাঠী ও দিলীপ কুমার শর্মা ‘অজ্ঞাত’-সহ অনেকে।

কবিতা পড়ছেন কন্নড় কবি কমলাকর ভাট
সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেন সহেলী চৌধুরী, আত্রেয়ী চক্রবর্তী, রাতুল চন্দ্র রায়, শুদ্ধেন্দু চক্রবর্তী ও পৌলমী চট্টোপাধ্যায় বন্দোপাধ্যায়। রবীন্দ্রনাথ ও লালনের গান ছাড়াও শোনা যায় কবিতার গান। বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিশিষ্ট বাচিক শিল্পীদের কণ্ঠে বাংলা কবিতার পাঠ - যেখানে উচ্চারিত হয় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, দেবারতি মিত্র, মল্লিকা সেনগুপ্ত, ভাস্কর চক্রবর্তী, অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বহু কবির কবিতা।
দুটি কক্ষে একসঙ্গে চলা অনুষ্ঠানে কবি ও শ্রোতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজক সপ্তর্ষি প্রকাশনের সৌরভ মুখোপাধ্যায় জানান, “আগামী বছর এই উৎসব পঞ্চম বর্ষে পা দেবে। আরও বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।”
তিন দিনের এই কবিতা উৎসব নতুন বছরের শুরুতেই কলকাতার সাহিত্যমানচিত্রে আলাদা ছাপ রেখে গেল।