বাংলাদেশের পাঠ্যবইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম থেকে বাদ ‘বঙ্গবন্ধু’।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 29 December 2025 10:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের স্কুলের পাঠ্য বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে থাকা 'বঙ্গবন্ধু' কথাটি বাদ দিয়েছে মহাম্মদ ইউনূস এর অন্তর্বর্তী সরকার। গত বছর ইউনুস সরকার ক্ষমতায় এসেই পাঠ্যবই থেকে মুজিবের জাতির পিতা শিরোপা বাতিল করে দিয়েছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশে বাজারে এসেছে নতুন নোট। তাতে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি রাখা হয়নি।
ইংরেজি নতুন বছরের মুখে স্কুলে নতুন পাঠ্য বই দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক পর্ষদ (এনসিটিবি)। ক্লাস টেনের 'বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়' পাঠ্যবইয়ে দেখা গেছে, শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে 'বঙ্গবন্ধু' শব্দটি নেই। ক্লাস এইটের জন্য ছাপানো ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পাঠ্যবইয়ের ২১ নম্বর পাতায় শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণের উল্লেখ আছে। সেই সংক্রান্ত রচনায় পাঁচ জায়গায় শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে বঙ্গবন্ধু কথাটি লেখা ছিল। এবারের বইয়ে তা নেই। শুধু এক জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লিগের সভাপতি এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন।
'বঙ্গবন্ধু' মুজিবের রাষ্ট্রীয় শিরোপা ছিল না। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি লাভ করেন। পরের দিন ২৩ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ তাঁর সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক জনসভার আয়োজন করে। সেখানে তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেওয়া হয়। এই সময়ের তরুণ নেতা তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' বলে সম্বোধন করেন। অশীতিপর তোফায়েল আহমেদ এখন গুরুতর অসুস্থ।
কত বছর বাংলাদেশ সরকার হাইকোর্টের কি মামলায় জানিয়েছে তারা শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা বলে মানে না। তার জন্মদিন ১৭ ই মার্চের ছুটিও বাতিল করেছে সরকার। যদিও বাংলাদেশের সংবিধানে এখনো শেখ মুজিবকে জাতির পিতা বলে উল্লেখ করা আছে। এছাড়া সরকারিভাবেও তাঁর এই শিরোপা বাতিলের কোন নির্দেশিকা জারি হয়নি।
একই মামলায় বাংলাদেশ সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে জানান 'জয় বাংলা'-কে তারা জাতীয় স্লোগান বলেও মনে করে না।
গত বছর ৫ অগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের স্ট্যাচু মুরাল ইত্যাদি ধ্বংস করা শুরু হয়। গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ধানমন্ডিতে তার বাড়িটিও। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের নোট থেকে মুজিবের ছবিও বাদ দেওয়া হয়েছে সম্প্রতি।