সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এসএসসি মামলায় ২৬ হাজার জনের চাকরি গেছে। শীর্ষ আদালতের এই রায় মানতে পারেননি চাকরিহারারা।

ফিরহাদ হাকিম
শেষ আপডেট: 17 May 2025 16:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ন্যায্য চাকরির দাবিতে বিকাশ ভবন চত্বরে বিক্ষোভ (Protest at Bikash Bhavan) দেখাচ্ছেন চাকরিহারারা (Jobless Teachers)। তাঁদের ওপর পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ উঠলেও অবস্থান থেকে নড়েননি কেউ। বরং তাঁদের সাফ কথা, চাকরি ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা নড়বেন না। চাকরিহারাদের একাংশের এই প্রতিবাদকে নাটক বলে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। তাঁর কথায়, টিভিতে মুখ দেখানোই আসল লক্ষ্য।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এসএসসি মামলায় ২৬ হাজার জনের চাকরি গেছে। শীর্ষ আদালতের এই রায় মানতে পারেননি চাকরিহারারা। এমনকী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে নেতাজি ইনডোরে বৈঠক করেছিলেন। কিন্তু তারপরও চাকরিহারাদের একাংশ বিক্ষোভ করতে পথে নেমেছেন। এর আগে কসবা ডিআই অফিসে তাঁদের প্রতিবাদের জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা হয়েছিল। বর্তমানে বিকাশ ভবন এলাকায় উত্তেজনা। ফিরহাদ অবশ্য বলছেন, চাকরিহারাদের একাংশ নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে এসব করছেন।
মেয়রের কথায়, মুখ্যমন্ত্রী চাকরিহারাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। সেই বার্তায় অনেকেই আস্থা রেখেছেন। কিন্তু একটা অংশ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন ইচ্ছে করে। তাঁর সাফ বক্তব্য, চাকরিহারারা নাটক করে টিভিতে মুখ দেখাতে চাইছেন। কিন্তু ওদের মনে রাখতে হবে সুপ্রিম কোর্টের রায় এইভাবে বিকাশ ভবনের সামনে বিক্ষোভ করে বদলানো যাবে না। ফিরহাদ হাকিমের আরও সংযোজন, মুখ্যমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখে অনেকেই বাড়ি চলে গেছেন। তবে যারা বিখ্যাত হতে চাইছেন তারাই এখন রাস্তায় বসে আছেন।
চাকরিহারারা যা করছেন তাতে আইনি জটিলতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা ফিরহাদের। তিনি মনে করেন, দুর্নীতির বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট দেখছে। ইতিমধ্যে শীর্ষ আদালত রায়ও দিয়েছে। কিছু পরিবর্তন করতে হলে তাঁরাই পারবেন। বিকাশ ভবনের সামনে আন্দোলন করে কোনও লাভ পাবেন না চাকরিহারারা। বরং তাঁদেরই সমস্যা বাড়তে পারে।
আন্দোলনকারী শিক্ষকরা ফিরহাদ হাকিমের এই বক্তব্য শুনে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ। তাঁরা বলছেন, এই ধরনের মন্তব্য করা একদমই উচিত হয়নি কারণ তাঁরা যোগ্য এবং কষ্ট করে চাকরি পেয়েছেন। সেই চাকরি চলে যাওয়ার পর কী করে উনি এটাকে নাটক বলতে পারেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।