আবহাওয়া ছিল পক্ষে। ষষ্ঠীর কলকাতায় জনসুনামি। উত্তর থেকে দক্ষিণ, ভিড় উপচে পড়ল মণ্ডপে মণ্ডপে।

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 29 September 2025 09:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ষষ্ঠীর দিন সূর্য মধ্যগগনে উঠতেই শহরের রাস্তায় নামে মানুষের ঢল। দুপুর গড়িয়ে বিকেল, তারপর রাত যত গভীর হয়েছে, জনস্রোত ততোই রূপ নিয়েছে জনসুনামির। একডালিয়া এভারগ্রিন থেকে ত্রিধারা, বাগবাজার থেকে তেলেঙ্গাবাগান, কুমোরটুলি পার্ক থেকে হাতিবাগান, উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার প্রতিটি মণ্ডপ আর রাস্তা যেন একটিই শব্দে সংজ্ঞায়িত করা যায়, ‘ভিড়’। বিধান সরণি, অরবিন্দ সরণি, রাসবিহারী অ্যাভেনিউ, সিআর অ্যাভেনিউ, নিউ আলিপুর বা বাগবাজার স্ট্রিট, সবই কার্যত মানুষের দখলে। সাময়িকভাবে গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হয় বহু জায়গায়।
ঝলমলে আলোর সারি, ঠাকুর দেখার উন্মাদনার পাশাপাশি জমজমাট হয়েছে রাস্তার ধারে মেলা। ফুচকাওয়ালা থেকে খেলনাওয়ালা, সবার মুখেই খুশির হাসি। নতুন কানের দুল, গলার হার, ঘর সাজানোর সরঞ্জাম কিংবা ব্যাগ, হয়তো খুব দরকারি নয়, কিন্তু ভিড়ের মাঝেই চোখ যাচ্ছে সেসবে, কিনেও নিচ্ছেন অমেকে। কোথাও হঠাৎ হাতে উঠে আসছে ভেঁপু, সারা রাত বাজছে তার শব্দ।
ষষ্ঠীর রাত যত বেড়েছে, উৎসবের পারদ আরও চড়েছে। দক্ষিণে একডালিয়া, রাজডাঙা, সিংহীপার্ক, সেলিমপুর, হরিদেবপুর, বেহালা বা উত্তরে টালা প্রত্যয়, টালা বারোয়ারি, নবীনপল্লি, কাশী বোস লেন, হাতিবাগান, সিকদারবাগান, সব জায়গাতেই তিল ধারণের জায়গা পর্যন্ত ছিল না। দর্শনার্থীদের একাংশের মতে, বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, তাই বৃষ্টি যখন হচ্ছে না, মিস করা যাবে না কোনও প্যান্ডেল।
জনস্রোতে ব্যারিকেড টিকছে না। রাস্তার সিগন্যালে আটকে পড়ছে গাড়ি, ঘুরিয়ে দিতে হয়েছে অনেক রুট কিন্তু তাতে কী, পায়ে হেঁটে এগিয়ে চলেছে সকলে। দুপুরে যারা বহু মণ্ডপ ঘুরে ক্লান্ত, তারা খুঁজে নিচ্ছেন খাবারের দোকান। আর নামকরা রেস্তরাঁ থেকে স্ট্রিট ফুডের দোকান, সবেতেই ভিড়। ক্যাফেও বাদ গেল না। তীব্র গরমে একটু জিরিয়ে নিতে ক্যাফে ভরসা অনেকেরই। সেখানেই টাচ-আপ সেরে নেওয়া, এসি-তে ঘামে ভেজা জামা শুকিয়ে নেওয়ার উদাহরণও কম নেই।
ভিড় সামলাতে রাস্তায় কড়া নিরাপত্তা লক্ষ্য করা গেছে রবিবার রাতে। প্রচুর পুলিশ কর্মীর পাশাপাশি হোম গার্ড, সিভিক ও এনসিসি বা পুজোর ভলান্টিয়ররাও মাঠে নেমেছেন। সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহু এলাকা দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে, সহজেই পুলিশ সামলে নিচ্ছে। কোথাও পুলিশ-দর্শনার্থী বচসাও বেঁধেছে।
আবহাওয়া ছিল ষষ্ঠীর পক্ষে। দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গে দুপুর থেকে সন্ধে পর্যন্ত হালকা বৃষ্টি বিক্ষিপ্তভাবে হলেও তার প্রভাব পড়েনি।