বয়স্ক নাগরিকদের সম্মান, অধিকার ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কলকাতায় অনুষ্ঠিত হল রাজ্যস্তরীয় সচেতনতা কর্মসূচি ও সম্মেলন। উঠে এল বাস্তব চিত্র ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।

বয়স্কদের যত্ন। ফাইল চিত্র।
শেষ আপডেট: 29 June 2025 15:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি সম্মান, মর্যাদা ও সংবেদনশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কলকাতায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হল সম্মেলন ও কর্মশালা। মানসিক ও সামাজিক স্বাস্থ্য, আইনি অধিকার, একাকীত্ব, অবহেলা ও দারিদ্র্যের মতো বিষয়গুলি নিয়ে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ কর্মসূচিতে হাজির ছিলেন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, সমাজকর্মী, গবেষক, যুব প্রতিনিধি এবং প্রবীণ নাগরিকেরা।
এই কর্মসূচির মূল আয়োজক ছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রি-র সাইকিয়াট্রিক সোশ্যাল ওয়ার্ক বিভাগ। সহযোগিতায় ছিল কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল ডিফেন্স এবং ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম।
অনুষ্ঠানে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩৬% প্রবীণ মানুষ দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় ভোগেন, যার মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসই সবচেয়ে বেশি। এক গবেষণায় দেখা যায়, কলকাতার বস্তি অঞ্চলে বসবাসকারী প্রবীণ মহিলাদের মধ্যে ৮৩.৬% যৌথ ব্যথা, ৭৩.২% দাঁতের সমস্যা এবং ৪৯.২% উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন।
শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যও অন্যতম উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। পূর্ব বর্ধমান ও চেতলায় করা গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ৩৭% প্রবীণ মানুষ কোনও না কোনও মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত, যাঁদের অধিকাংশের কোনও চিকিৎসাই হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গে ডিমেনশিয়ার হার প্রায় ১৩.৫৭%। আলঝেইমার, ভাস্কুলার ডিমেনশিয়া এবং মিশ্র ধরনের সমস্যা বহু প্রবীণের জীবনের মান কমিয়ে দিয়েছে। ৬৮.৮৯% প্রবীণ মানুষ ঘুমের সমস্যা নিয়ে জর্জরিত, যার পিছনে রয়েছে একাকীত্ব, হতাশা ও দাম্পত্য ক্ষতি।
সার্ভের তথ্য বলছে, রাজ্যের গ্রামাঞ্চলে ২৫.৬% প্রবীণ নারী-পুরুষ মানসিক নিগ্রহ বা অবহেলার শিকার। আবার কলকাতায় ৫৮% প্রবীণ নারী আর্থিকভাবে নিরাপত্তাহীন।
সম্মেলনে মঞ্চস্থ হয় 'বাঁচব মোরা একসাথে' নাটক, যা প্রবীণদের প্রতি সম্মান ও সহানুভূতির শক্তিশালী বার্তা দেয়। পরিচালনায় ছিলেন সমাজকর্মী সমরজিৎ দাস। আরও আলোচনায় উঠে আসে, সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণ, নৃত্যচিকিৎসা ও সৃজনশীলতা কীভাবে প্রবীণদের মানসিক উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।
সম্মেলনে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলির মধ্যে রয়েছে, প্রবীণদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য ক্যাম্প, কাউন্সেলিং ও মোবাইল ক্লিনিক, পরিবারভিত্তিক যত্ন, নিয়মিত যোগাযোগ ও সহানুভূতিশীল আলোচনার উদ্যোগ, ডিজিটাল সাক্ষরতা কর্মসূচি চালু, বিশেষ করে ভিডিও কল, হোয়াটসঅ্যাপ ও ডিজিটাল পেমেন্ট শেখানো, আইনগত সচেতনতা বাড়াতে ব্লক পর্যায়ে হেল্প ডেস্ক ও কর্মশালা, প্রবীণদের জন্য উপযোগী পরিকাঠামো (র্যাম্প, অডিও-ভিজ্যুয়াল সাইন, বাথরুম ইত্যাদি), প্রবীণদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক ইভেন্ট, কুইজ, গল্প বলার প্রতিযোগিতা, আইনগত সহায়তা জোরদার, বিশেষ করে ২০০৭ সালের প্রবীণ ও পিতামাতার কল্যাণ আইনের বাস্তবায়ন।