পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে ফের নড়েচড়ে বসেছে ইডি (ED)। এবার তলব করা হল রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে।

সুজিত বসু
শেষ আপডেট: 13 November 2025 13:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে ফের নড়েচড়ে বসেছে ইডি (ED)। এবার তলব করা হল রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে। ইডি সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহে সিজিও কমপ্লেক্সে তাঁদের হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই একাধিক দফায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। এই মামলায় অভিযুক্ত অয়ন শীল-সহ বেশ কয়েকজনকে আগেই গ্রেফতার করেছে ইডি। তদন্তের সূত্র ধরেই গত বছর অক্টোবরে লেকটাউনে মন্ত্রী সুজিত বসুর দুটি বাড়ি এবং তাঁর দফতরে হানা দেয় ইডি আধিকারিকরা। তখন মন্ত্রীর ছেলে সমুদ্র বসুর ধাবাতেও তল্লাশি চালানো হয়। ওই অভিযানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে।
স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ব্যবসায়ী অয়ন শীলকে প্রথম গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। পরে তাঁর সল্টলেকের অফিসে তল্লাশি চালাতে গিয়ে উদ্ধার করা হয় বেশ কিছু উত্তরপত্র বা ওএমআর শিট। সেখান থেকেই পুরসভার নিয়োগেও দুর্নীতির হদিস পান তদন্তকারীরা। অয়নের সংস্থা পুর নিয়োগের ক্ষেত্রে ওএমআরের দায়িত্বে ছিল। তদন্তে নেমে একে একে আরও অনেককে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। পরে এই মামলায় অবৈধ ভাবে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্তে নামে ইডিও।
ইডি সূত্রে আরও খবর, তদন্তে উঠে আসা নতুন তথ্যের ভিত্তিতেই মন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে অর্থ লেনদেনের দিকটি খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ।
এর আগে, ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি পুর নিয়োগ দুর্নীতির সূত্রেই লেকটাউনে মন্ত্রীর বাড়ি ও অফিসে টানা ১৪ ঘণ্টা তল্লাশি চালায় ইডি। সেই সময়ও বেশ কিছু নথি ও সুজিত বসুর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।
ইডি সূত্রে দাবি, ওইসব নথি খতিয়ে দেখেই তদন্তের নতুন দিক খুলেছে, যার ভিত্তিতেই ফের ডাকা হয়েছে মন্ত্রীর পরিবারকে।
মাস খানেক আগে কলকাতা এবং আশপাশের ১৩ জায়গায় শুক্রবার তল্লাশি চালিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সেই নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছিল যে, ১৩টি জায়গায় শুক্রবার তারা তল্লাশি চালিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর দফতর এবং সংস্থা। শহরের ১৩টি জায়গায় তল্লাশিতে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে নগদ ৪৫ লক্ষ টাকা এবং নথিপত্র। সেই নগদ নিয়ে কোনও ‘ব্যাখ্যা মেলেনি’। তবে ওই টাকা কোথা থেকে মিলেছে, তা স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি ইডি। সুজিতের দফতর বা সংস্থা থেকে কোনও টাকা আটক করা হয়েছিল কি না, বা করলে কত পরিমাণে, তারও কোনও উল্লেখ ইডির বক্তব্যে ছিল না।