বৃহস্পতিবার বেলায় আইপ্যাকের অফিসে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। এরপরই আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে যান সিপি মনোজ ভারমা এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সবুজ ফাইল হাতে মুখ্যমন্ত্রী
শেষ আপডেট: 8 January 2026 13:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সকালেই আইপ্যাকের অফিসে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (I PAC ED Raid)। এরপরই আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Prateek Jain) বাড়িতে যান সিপি মনোজ ভার্মা এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কিছুক্ষণের মধ্যেই হাতে সবুজ ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)-এর কর্ণধার প্রতীক জৈন (Prateek Jain)-এর বাড়ি ও দফতরে একযোগে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সল্টলেক (Salt Lake)-এ আইপ্যাকের দফতর এবং লাউডন স্ট্রিটে (Loudon Street) প্রতীক জৈনের বাড়িতে শুরু হয় তল্লাশি। ইডি সূত্রে খবর, দিল্লির (Delhi) একটি পুরনো কয়লা পাচার (Coal Smuggling) মামলার সূত্র ধরেই এই অভিযান।
এই সময়েই প্রতীক জৈনের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা (CP Manoj Verma)। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকের সামনে ইডি হানা (I PAC ED Raid) নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, নির্বাচনের জন্য আমাদের প্রার্থী তালিকা, নির্বাচনী কৌশল, হার্ড ডিস্ক-সহ দলের সব তথ্য হাতানোর জন্যই এই অভিযান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'এটাই কি ইডি এবং অমিত শাহর ডিউটি?'
অমিত শাহকে (Amit Shah) নিশানায় এনে কড়া ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'নটি হোম মিনিস্টার, ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার, যিনি দেশকে রক্ষা করতে পারেন না।' "আমার দলের সব তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যদি আমরা বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালাই তাহলে কী হবে?"
এসআইআর (SIR) ইস্যুতেও আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। দাবি করেন, "এসআইআর করে বাংলার মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। ২ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষকে শুনানিতে ডাকছে। ৫৪ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে।"
'কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করছে না, শুধু হোয়াটস অ্যাপেই সব কাজ চালাচ্ছে।' কমিশনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
ইডি (ED) সূত্রে জানা যাচ্ছে, কয়েক বছর আগে এই মামলার তদন্তে ঝাড়খণ্ড (Jharkhand) এবং কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সেই সময় কয়লা পাচার মামলায় অনুপ মাঝি ওরফে লালাকে দিল্লিতে ডেকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। শুধু অনুপ মাঝিই নন, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে আরও বেশ কয়েকজনকে জেরা করা হয়। পাশাপাশি টাকার লেনদেন (Money Trail) সংক্রান্ত একাধিক নথি খতিয়ে দেখেন ইডির আধিকারিকরা।
সূত্রের দাবি, সেই জেরার সূত্র ধরেই উঠে আসে প্রতীক জৈনের (Prateek Jain) নাম। তদন্তকারীদের হাতে আসে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কিছু তথ্য, যা যাচাই করতেই ফের সক্রিয় ইডি।