দুর্গাপূজা আর্ট প্রিভিউ শো ২০২৫ আসছে ১৮–২২ সেপ্টেম্বর, কলকাতায়। ইউনেস্কোর সহযোগিতায় মাসআর্ট আয়োজন করছে অটাম আর্ট ফেয়ার, যেখানে শিল্পীরা পাবেন বৈশ্বিক স্বীকৃতির সুযোগ।

কলকাতার থিম-নির্ভর দুর্গাপুজো। ফাইল চিত্র।
শেষ আপডেট: 18 August 2025 17:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজোর ঢাক বাজতে এখনও কিছুটা দেরি। কিন্তু তার আগেই শহরজুড়ে শুরু হয়ে যাচ্ছে এক অনন্য আয়োজন। মাসআর্ট (massArt), কলকাতার এক সমাজ-সাংস্কৃতিক সংস্থা, আয়োজন করতে চলেছে দুর্গাপূজা আর্ট প্রিভিউ শো ২০২৫। ১৮ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর আলিপুর মিউজিয়ামে চলবে এই প্রদর্শনী, যেখানে কলকাতার ২৪টি বিখ্যাত পুজোর শিল্পকর্মের থিম আগেভাগেই দেখানো হবে দর্শকদের।
২০২২ সালে প্রথম শুরু হওয়া এই প্রিভিউ শো ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক পর্যটক ও শিল্পপ্রেমীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। পুজো শুরুর আগে দুর্গাপূজার শিল্পকলাকে সামনে আনার এই উদ্যোগ আসলে আজকের দিনে কলকাতাকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘পাবলিক আর্ট ফেস্টিভ্যাল’ হিসেবে পরিচিত করাতে সাহায্য করছে।
প্রেস কনফারেন্সে মাসআর্টের সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি বোস শুভ বলেন, “দুর্গাপূজা প্রিভিউ শো শুধু পুজোর আগের অনুষ্ঠান নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্যকে বিশ্বের সামনে পৌঁছে দেওয়ার সেতুবন্ধ।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের বিশেষ কমিশনার কৌশিক বসাক, আইআইটি খড়গপুরের অধ্যাপক হমিতান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, ইতিহাসবিদ ড. জয়ন্তনা সেনগুপ্ত ও ইউনেস্কোর বিশেষ প্রতিনিধি।
২০২৫-এর প্রদর্শনীতে থাকছে একাধিক নতুন দিক। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হল, ইউনেস্কো–মাসআর্টের যৌথ উদ্যোগ, যা বাংলার শিল্পকে আরও বড় মঞ্চে নিয়ে যাবে।
‘অটাম আর্ট ফেয়ার’-এ দর্শকরা দেখতে পাবেন কমিউনিটি শিল্পীদের হাতে তৈরি নানান শিল্পকর্ম। প্রতিটি কাজ সেই পুজোর থিমের সঙ্গে মিলিয়ে বানানো। দর্শক ও প্রতিনিধি চাইলে এগুলি কিনতেও পারবেন। এর ফলে শিল্পীরা যেমন নতুন ব্যবসার সুযোগ পাবেন, তেমনি বাংলার আর্ট পৌঁছে যাবে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে—যেমন ইন্ডিয়া আর্ট ফেয়ার, আর্ট দুবাই, আর্ট বাসেল।
এবারের আয়োজনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, অ্যাক্সেসিবিলিটি। ইউনেস্কো, আইআইটি খড়গপুর ও মাসআর্ট একসঙ্গে এমন ব্যবস্থা করছে যাতে বিশেষভাবে সক্ষম মানুষ ও প্রবীণ দর্শনার্থীরা ২৪টি দুর্গাপূজার শিল্প-স্থাপনা অনায়াসে ঘুরে দেখতে পারেন।
ধ্রুবজ্যোতি বোস শুভ বলেন, “আমরা চাই বিশ্বের মানুষ দুর্গাপূজার প্রাণশক্তি আগে থেকেই অনুভব করুক। ইউনেস্কো ও সরকারের সহায়তায়, আর আমাদের শিল্পীদের সৃজনশীলতায়, আমরা নিশ্চিত কলকাতা একদিন ওপেন-এয়ার গ্যালারিতে পরিণত হবে।”