ট্রাফিক পুলিশের আধিকারিকদের মতে, এই ক্যামেরা বসলে আর লালবাতি ভেঙে ‘চুপিসারে’ পালানো সম্ভব হবে না।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 23 January 2026 17:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাড়াহুড়ো, অসাবধানতা আর ‘এবারে পার হয়ে যাই’—এই তিনের জোটেই শহরের রাস্তায় বাড়ছে সিগন্যাল অমান্য করার প্রবণতা (obey red lights)। লাল আলো জ্বললেও গাড়ির গতি থামে না বহু জায়গায়। তার ফল, দুর্ঘটনা, যানজট, কখনও প্রাণহানিও। এই লাগামছাড়া প্রবণতায় রাশ টানতেই কড়া পদক্ষেপ কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের (Kolkata, Traffic Police)।
শহরের একাধিক ব্যস্ত ও দুর্ঘটনাপ্রবণ মোড়ে বসতে চলেছে রেড লাইট ভায়োলেশন ডিটেকশন ক্যামেরা (RLVD)। প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০টি গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যালযুক্ত ক্রসিং এই অত্যাধুনিক নজরদারির (Red light violation camera) আওতায় আনা হবে। ট্রাফিক পুলিশের আধিকারিকদের মতে, এই ক্যামেরা বসলে আর লালবাতি ভেঙে ‘চুপিসারে’ পালানো সম্ভব হবে না।
এই ক্যামেরাগুলি ANPR (অটোমেটিক নম্বরপ্লেট রিকগনিশন) প্রযুক্তিতে সজ্জিত। অর্থাৎ, লাল সিগন্যাল অমান্য করলেই সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরায় ধরা পড়বে গাড়ির নম্বরপ্লেট, সময় ও অবস্থান। সেই তথ্য পৌঁছে যাবে লালবাজারের ট্রাফিক সার্ভারে। এরপর গাড়ির মালিকের মোবাইল নম্বরে যাবে এসএমএস বা ই-মেইলে জরিমানার নোটিস। অনলাইনেই জরিমানা মেটানোর ব্যবস্থাও থাকবে।
ট্রাফিক দফতর সূত্রে খবর, এই প্রকল্পে খরচ হতে পারে প্রায় ২.৫ কোটি টাকা। সিগন্যাল অমান্য করলে ন্যূনতম এক হাজার টাকা জরিমানা ধার্য হওয়ার সম্ভাবনা। পুলিশের দাবি, উদ্দেশ্য জরিমানা আদায় নয়—বরং চালকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা।
পরিসংখ্যান বলছে, শহরের মোট সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য অংশের পিছনে রয়েছে সিগন্যাল অমান্য। তাই প্রযুক্তির সাহায্যে নজরদারি বাড়িয়ে দুর্ঘটনা কমানো ও রাস্তা নিরাপদ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।