পুলিশের এক আধিকারিকের কথায়, “আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। তবে সতর্কতায় কোনও রকম ঢিলেমি দেওয়া হবে না।”
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 23 January 2026 11:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগের আবহে কলকাতায় আরও শক্ত করা হল নিরাপত্তা বলয়। যাত্রী সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে শহরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় তিন হাজার পুলিশকর্মী। বিশেষ নজরে রয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। আগমন ও প্রস্থান—দু’টি টার্মিনালেই চলছে কড়া তল্লাশি। যাত্রীদের হ্যান্ডব্যাগ ও কেবিন লাগেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে বাড়তি সতর্কতায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক কিছু নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইনপুটের ভিত্তিতেই এই ব্যবস্থা। বিশেষ করে প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপত্তা সংক্রান্ত হুমকির ঘটনার জেরে রাজ্যগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সেই সূত্র ধরেই কলকাতায় আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
বিমানবন্দরের প্রবেশপথে বাড়ানো হয়েছে চেকপোস্ট। স্ক্যানারের পাশাপাশি হাতে ধরে তল্লাশিও চলছে। সাধারণ পোশাকের পুলিশ ও গোয়েন্দা আধিকারিকদের তৎপরতা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজর রাখতে সিসিটিভি মনিটরিংও আরও কড়া করা হয়েছে।
শুধু বিমানবন্দরেই নয়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি। হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন, বাস টার্মিনাস, বড় বাজার, শপিং মল ও ভিড় জমে এমন এলাকাগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত বাহিনী। রাতের দিকে চলছে মোবাইল প্যাট্রোলিং। প্রধান সড়কের মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেট।
এই নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে, যখন দেশের অন্য শহরগুলিতেও উদ্বেগ বেড়েছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের কয়েক দিন আগে আহমেদাবাদ ও নয়ডার একাধিক স্কুলে বোমা হামলার হুমকি-ইমেল পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে। সেই ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিতে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং পুলিশ ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ভুয়ো হুমকিও হতে পারে, তবে কোনও ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে না।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, শহরে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ প্রতিরোধমূলক। পুলিশের এক আধিকারিকের কথায়, “আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। তবে সতর্কতায় কোনও রকম ঢিলেমি দেওয়া হবে না।”
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ফলে ছোট ব্যাগ বা হ্যান্ডব্যাগ হলেও কোনও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। নিরাপত্তা পরীক্ষায় কিছুটা সময় লাগলেও যাত্রীদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।