
শেষ আপডেট: 15 January 2024 15:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা যেন ‘কাশি’র শহর হয়ে উঠেছে।
গত বছর ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। সময় যত এগোচ্ছে ততই বাড়ছে কাশির দমক। কেউ ভুগছেন টানা ১০-১৫ দিন, কারও আবার তিন-চার সপ্তাহের আগে কাশি কমছে না। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, প্রতি বছরই আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময়ে ভাইরাসের দাপাদাপিতে এমন সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু এ বারে সেই সমস্যা অনেকটাই বেশি। শিশু থেকে প্রবীণ— কাশি থেকে যেন রেহাই নেই কারও। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে লাগামছাড়া দূষণ এবং তারই সঙ্গে ভাইরাসের প্রকোপ।
করোনা গেলেও তার সঙ্গীদের ফেলে গেছে। অ্যাডেনোভাইরাস, রেসপিরেটারি ভাইরাস যেন মোচ্ছব শুরু করেছে শহরে। চিকিৎসকদের মতে, ভাইরাসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দূষণও। যার জেরে সমস্যা আরও জটিল আকার নিচ্ছে। শহরের প্রায় প্রতিটি হাসপাতালের বহির্বিভাগ এবং চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে আসা রোগীদের মধ্যে ৭০ শতাংশই কাশির সমস্যা নিয়ে আসছে। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, ঋতু বদলের সময় সর্দি-কাশি হয়েই থাকে। অ্য়ালার্জি থাকলে সে সমস্য়াও বাড়ে। কিন্তু এখন শুরু হয়েছে এমন বেদম কাশি যা প্রায় তিন মাস থাকছে। কাশতে কাশতে গলা চিরে যাওয়ার জোগাড় হচ্ছে। আর ওষুধে যদি কাশি সেরে যায় তো ভাল, না হলে এই কাশির থেকেই নানা সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে শরীরে।
এই কাশি কিন্তু মারাত্মক ছোঁয়াচে। বাড়ির একজনের হওয়া মানেই তা বাকিদের মধ্যেও ছড়াবে। মুখ থেকে বেরনো থুতু-লালার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াবে। তাই বাড়ির বাচ্চা ও বয়স্কদের বেশি সাবধানে থাকতে বলা হচ্ছে। হুপিং কাশি খুব সংক্রামক ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, যা প্রধানত শিশুদের বেশি হয়। এটি সাধারণ সর্দি-কাশির মতো শুরু হয়। তারপর ধীরে ধীরে চোখ থেকে জল পড়া, গলা ব্যথা এবং শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার মত উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। বাড়তে থাকে কাশির দমক। ধীরে ধীরে এই রোগ ফুসফুসকে সংক্রমিত করে। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, শ্লেষ্মা, কাশি, খিদে না পাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা— ইত্যাদি উপসর্গ দেখা যায়।
চিকিৎসকরা বলছেন, আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনে তাপমাত্রা ওঠানামা করলে ভাইরাসের উপদ্রব বাড়ে। সেই সঙ্গে যদি বাতাসে বিষাক্ত কণা বা অ্যারোসলের মাত্রা বাড়ে তাহলে তো কথাই নেই। বিষ-বাষ্পে ভর করে জীবাণু ছড়িয়ে যাবে বহুদূর। দেশজুড়েই দূষণের পাল্লা ভারী। মেট্রো শহরগুলিতে তো কথাই নেই। দূষণের তালিকায় এগিয়ে আছে দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) সাম্প্রতিকতম রিপোর্ট বলছে, বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম কণার (পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম ২.৫) মাত্রা হু-র নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে প্রায় ১৭ গুণ বেশি। শুধু ভাসমান ধূলিকণা (পিএম১০) ও অতিসূক্ষ্ম ধূলিকণাই (পিএম ২.৫) নয়, যানবাহনের সংখ্যা বাড়ায় বাতাসে নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রাও বিপজ্জনক হারে বাড়ছে। শহরের বাতাসে সূক্ষাতিসূক্ষ অ্যারোসল কণার মাত্রা সাঙ্ঘাতিক বেশি। এই দূষণ-কণাগুলি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। আর দূষণকে আশ্রয় করেই ভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে শহরে।