কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ, বিজেপি সরকার জাতীয় স্তরে প্রায় ২০ কোটি মানুষের কাজের অধিকার কার্যত কেড়ে নিয়েছে। শুধু মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ দেওয়াই নয়, মনরেগা আইনে মৌলিক পরিবর্তন এনে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।

কংগ্রেসের প্রতিবাদ - নিজস্ব ছবি
শেষ আপডেট: 10 January 2026 19:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মনরেগা (MGNREGA) দুর্নীতি ও কেন্দ্রের নীতির বিরুদ্ধে শনিবার পথে নেমেছিল দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেস। ভবানীপুরের যদুবাবুর বাজারের সামনে শুক্রবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে কংগ্রেস (Congress)। একই সঙ্গে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) ও সিবিআইকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে - এই অভিযোগে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানায় কংগ্রেস নেতৃত্ব।
বিক্ষোভস্থল থেকে কংগ্রেসের দাবি, ধর্মীয় মেরুকরণের পর এখন রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটানোর কৌশল হিসেবে লোক দেখানো দুর্নীতি দমন চালানো হচ্ছে। চিটফান্ড, কয়লা পাচার, গরু পাচার, রেশন দুর্নীতি, শিক্ষক ও পৌর নিয়োগ কেলেঙ্কারি, ১০০ দিনের কাজের টাকা নয়ছয় - একাধিক মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থার (Central Agency) ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তোলে কংগ্রেস। অভিযোগ করা হয়, এসব ক্ষেত্রে ইডি ও সিবিআই (ED and CBI) কার্যত ব্যর্থ, অথচ নির্বাচন এলেই সংস্থাগুলিকে অতিসক্রিয় করে তোলা হয়।
কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ, বিজেপি সরকার জাতীয় স্তরে প্রায় ২০ কোটি মানুষের কাজের অধিকার কার্যত কেড়ে নিয়েছে। শুধু মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ দেওয়াই নয়, মনরেগা (MGNREGA) আইনে মৌলিক পরিবর্তন এনে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেস নেতারা বলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সিবিআই, ইডি ও আয়কর দফতরকে কার্যত দলীয় শাখা সংগঠনে পরিণত করেছে। বাংলায় কেন্দ্রীয় সংস্থার যত তদন্ত হয়েছে, তার পরিণতি কী - তা রাজ্যের মানুষ জানেন বলেও দাবি করা হয়।
আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি অভিযানের (ED Raid at IPAC Pratik Jain) প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসের অভিযোগ আরও তীব্র হয়। তাঁদের দাবি, যেভাবে তল্লাশির সময় জানলা-দরজা খোলা ছিল এবং মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) নিজে সেখানে প্রবেশ করে নথি নিয়ে বেরিয়ে যান - তা বিজেপি ও তৃণমূলের গোপন বোঝাপড়া ছাড়া সম্ভব নয়। কংগ্রেসের মতে, এতে একদিকে বিজেপি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে পেরেছে, অন্যদিকে তৃণমূল প্রয়োজনীয় নথি সরানোর সুযোগ পেয়েছে। কংগ্রেসের কটাক্ষ, সাপও মরল, লাঠিও ভাঙল না।
কংগ্রেস নেতৃত্বের স্পষ্ট বক্তব্য, এই রাজনৈতিক নাটকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানবিরোধী ভোট নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা চলছে। সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তাই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে - দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই আসলে নির্বাচনী কৌশলের অংশ মাত্র।