ইডির অভিযোগ, ওই সময় প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে একাধিক ফাইল ও ল্যাপটপ মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি আইপ্যাকের দফতরে যান এবং সেখান থেকেও কিছু নথি গাড়িতে রাখা হয় বলে দাবি কেন্দ্রীয় সংস্থার।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 January 2026 14:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপ্যাকের দফতর (Ipac Kolkata) ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Ipac Pratik Jain) বাড়িতে ইডির তল্লাশির (ED Raid at Ipac) সময় তদন্তে কী ভাবে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (Home Ministry)। সেই রিপোর্ট ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে দিল্লিতে ইডির সদর দফতরে (Delhi ED Office)। সূত্রের খবর, সেখান থেকেই পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাঠানো হবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর দফতরে।
গত বৃহস্পতিবার বেআইনি কয়লা পাচার মামলার সূত্র ধরে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Ipac Pratik Jain) বাড়ি ও সংস্থার অফিসে একযোগে অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তল্লাশি চলাকালীনই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
ইডির অভিযোগ, ওই সময় প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে একাধিক ফাইল ও ল্যাপটপ মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি আইপ্যাকের দফতরে যান এবং সেখান থেকেও কিছু নথি গাড়িতে রাখা হয় বলে দাবি কেন্দ্রীয় সংস্থার।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রিপোর্টে স্পষ্ট করে জানতে চেয়েছে -
তল্লাশির সময় তদন্তকারীরা কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছিলেন
রাজ্য পুলিশের ভূমিকা বা অতিসক্রিয়তা কতটা ছিল
কেন্দ্রীয় বাহিনী ওই সময়ে কী দায়িত্ব পালন করেছিল
তল্লাশি অভিযানের পর রাজ্যের শাসক দল কী ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিতে পারে
এই সব বিষয়ই বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রিপোর্টে।
যদিও তল্লাশির দিন কী কী ঘটেছিল, তা আগেই প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে ইডি (ED)। পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) জমা দেওয়া মামলার নথিতেও সেই ঘটনার উল্লেখ রয়েছে।
আইপ্যাক অভিযানের পর দিনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, এই তল্লাশি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল জানার লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থা অভিযান চালিয়েছে এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গোপনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আইপ্যাকের দফতরের সামনে দাঁড়িয়েই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক তীব্র অভিযোগ তোলেন তিনি।
অন্য দিকে, তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থার বক্তব্য, বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই এই অভিযান, যার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের কোনও যোগ নেই।
ইডির দাবি, সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং জোর করে গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এবার পুরো ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।