ইডি তল্লাশি ও আদালত পর্বের পর প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খুলল আই-প্যাক। বিবৃতিতে সংস্থার অবস্থান স্পষ্ট করে রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা।
.jpeg.jpg.webp)
প্রতীক জৈন ও আই-প্যাক (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 9 January 2026 22:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেটে গিয়েছে এক দিন। কয়লা পাচার মামলা (Coal Scam Case)–র তদন্তে তৃণমূলের (Trinamool Congress) রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের (I-PAC) অফিস ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Prateek Jain) বাড়িতে ইডি (ED) তল্লাশি চালানোর পর রাজ্য রাজনীতি তুঙ্গে। ঘটনার পর দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে শুক্রবার রাতে প্রথমবার প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া দিল সংস্থা।
সোশাল মিডিয়ায় দেওয়া বিবৃতিতে সংস্থার বক্তব্য, এই ধরনের তল্লাশি “অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং উদ্বেগের বিষয়।” রাজনৈতিক দলমত নির্বিশেষে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করা একটি সংস্থার বিরুদ্ধে এহেন পদক্ষেপ কাম্য নয়। আচমকা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হানার নিন্দা করলেও, তদন্তে সহযোগিতার বার্তাও স্পষ্টভাবে দিয়েছে তারা।
ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishor) তৈরি আই-প্যাক মূলত রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন নির্বাচনের আগে জনমত বিশ্লেষণ করে নিখুঁত রণকৌশল সাজিয়ে নির্দিষ্ট দলকে জেতানোর দক্ষতায় জাতীয় রাজনীতিতে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে এই সংস্থা। ২০১৪ সালে কেন্দ্রের ক্ষমতা বদলের নেপথ্যেও আই-প্যাকের পরিকল্পনাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
I-PAC issues a statement - "...Yesterday, officials from the Enforcement Directorate carried out searches at the I-PAC office and at the residence of our Director, Pratik Jain, in Kolkata. It was a difficult and unfortunate day for a professional organisation like I-PAC. We… pic.twitter.com/1kcTjw2RQn
— ANI (@ANI) January 9, 2026
পরবর্তী এক দশকের বেশি সময়ে কংগ্রেস (Congress), আপ (AAP), ডিএমকে (DMK), বিআরএস (BRS), জনতা দল ইউনাইটেড (JD-U)–সহ একাধিক রাজনৈতিক দল আই-প্যাকের পরিষেবা নিয়েছে। বর্তমানে তারা কাজ করছে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)–এর হয়ে। এদিকে সংস্থার মালিকানাতেও বদল এসেছে। প্রশান্ত কিশোর আর কর্ণধার নন, বর্তমানে আই-প্যাকের দায়িত্বে আছেন প্রতীক জৈন।
বিবৃতিতে নিজেদের দীর্ঘ রাজনৈতিক সাফল্যের কথা তুলে ধরেছে এই সংস্থা। তাদের দাবি, বিজেপি (BJP)–সহ নানা রাজনৈতিক দলের হয়েও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করেছে। ফলে কোনও রাজনৈতিক মতানৈক্যের প্রশ্নই ওঠে না। এই প্রেক্ষাপটে আচমকা ইডি তল্লাশি সমাজ ও গণতান্ত্রিক পরিসরে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে।
তবে সব অভিযোগ ও আপত্তির মাঝেও আই-প্যাক স্পষ্ট জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা প্রয়োজনে ডাকলে তারা তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
আর রাজ্য রাজনীতির চাপানউতরের মাঝে আই-প্যাকের এমন অবস্থান নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।