
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 17 December 2024 18:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গঙ্গাসাগর মেলার আর বেশিদিন বাকি নেই। তার আগে মঙ্গলবার নবান্ন সভাঘরে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেলা আয়োজনের জন্য সর্বস্তরের প্রস্তুতি কেমন চলছে সেটাই জানলেন তিনি। পাশাপাশি, প্রস্তুতির জন্য আর কী কী করতে হবে তাও বললেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের মোট ১৭টি দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে এদিন বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠক থেকেই তিনি জানান, এবার ২ হাজার ২৫০টি সরকারি বাস, ২৫০টি বেসরকারি বাস, ৯টি বার্জ, ৩২টি ভেসেল, ১০০টি লঞ্চ এবং ২১টি জেটি ব্যবহার করা হবে। তিনি এও জানান, সব যানের জিপিএস ট্র্যাকিং সুবিধা থাকবে। একই সঙ্গে স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে যা করা হবে ইসরোর সাহায্যে। যাতে ইন্টারনেট না থাকলেও সমস্যা না নয়। আর গঙ্গাসাগরের মেগা কন্ট্রোল রুম থেকে সবকিছু মনিটর করা হবে।
এছাড়া সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবে সঠিকভাবে ট্র্যাফিক ব্যবস্থার জন্য ১৬টি বাফার জোন করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে গাড়িগুলি স্পিড ক্যালিব্রেটর বসানো হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্যবারের মতো সাগরে বাসগুলিতে 'সাগর বন্ধু' থাকবে। মেলা এলাকায় ১ হাজার ১৫০টি সিসিটিভিও বসানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, গঙ্গাসাগর নিয়ে বেশি সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রত্যক্ষভাবে কাউকে নিশানা না করলেও বলেন, গঙ্গাসাগর অঞ্চলে কিছু স্পর্শকাতর এলাকা রয়েছে। বেশি ওয়াচ টাওয়ারের ব্যবস্থা করে সেই এলাকাগুলিতে বেশি খেয়াল রাখতে হবে। যাতে কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। তাঁর আশঙ্কা, এমন শক্তি আছে যারা গঙ্গাসাগর মেলা বানচাল করার চেষ্টা করতে পারে।
বাংলাদেশ ইস্যুতে এপার বাংলা উত্তাল। এই পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশে ৯৫ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী আটকে রয়েছেন। তাঁরা খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবেন বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুড়িগঙ্গার সেতু তৈরির জন্য ডিপিআর করা হয়েছে বলে এদিন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এই কাজ শেষ করতে চার বছর সময় লাগবে এবং সরকারিভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা খরচ হবে জানান তিনি। মমতার কথায়, এই সেতুর কাজ হয়ে গেলে তীর্থযাত্রী থেকে শুরু করে স্থানীয়দের সারা বছর সুবিধা হবে। এই সেতু ৫ কিমি লম্বা এবং চার লেনের। এই সেতুর নাম হবে গঙ্গাসাগর সেতু বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আগেই জানা গেছিল, গতবারের যে পরিমাণ বাস, ভেসেল, লঞ্চের ব্যবস্থা ছিল, এবার সে তুলনায় ভিন রাজ্য থেকে আসা পুণ্যার্থীদের জন্য সংখ্যাটা বাড়ানো হচ্ছে। তাছাড়া হাওড়া, বাবুঘাট ও ধর্মতলা থেকে একটি টিকিটেই সাগরের কচুবেড়িয়াতে পৌঁছে যেতে পারবেন পুণ্যার্থীরা। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভেসেল ধরার জন্য আর টিকিট কাটতে হবে না পুণ্যার্থীদের।