সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল, অতিবর্ষণের পর রাত দশটার মধ্যে জল সরে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন খোদ মেয়র। কিন্তু বুধবার সকালেও শহরের বহু এলাকায় জলমগ্ন চিত্র স্পষ্ট।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 24 September 2025 20:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জলমগ্ন কলকাতা (waterlogging in Kolkata) নিয়ে ফের ধোঁয়াশা—এখনও বহু এলাকা জলমগ্ন! এই পরিস্থিতি নিয়ে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের আশ্বাস এবং তাঁরই প্রশাসনের মেয়র পরিষদ সদস্য তারক সিং-এর বক্তব্যে মিলল ভিন্ন সুর (Mayor, Council's different tone) ঘিরে ধন্দে শহরের বাসিন্দারা (Citizens confused)!
সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল, অতিবর্ষণের পর রাত দশটার মধ্যে জল সরে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন খোদ মেয়র। কিন্তু বুধবার সকালেও শহরের বহু এলাকায় জলমগ্ন চিত্র স্পষ্ট। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি বাস্তবতা না বুঝেই ভরসার বাণী শুনিয়েছিলেন ফিরহাদ?
কলকাতার একাধিক অংশ এখনও যেন ‘ভাসমান শহর’! কলেজ স্ট্রিট, ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি, গড়িয়াহাট, বালিগঞ্জ—এখনও বহু এলাকা জলমগ্ন। মঙ্গলবার রাতভর চলেছে বৃষ্টি আর তার সঙ্গে শহরের নিকাশি ব্যবস্থার দিশাহীনতা। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৯ জনের। তার মধ্যেই মেয়রের মন্তব্য, “বৃষ্টি না হলে রাত দশটার মধ্যে শহর থেকে সব জল বেরিয়ে যাবে।” এ কথা তিনি বলেছিলেন নিজেই বিপর্যস্ত এলাকায় দাঁড়িয়ে।
কিন্তু বাস্তবের চিত্র তা নয়—সেটা স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিলেন মেয়র পরিষদ সদস্য তারক সিং। তাঁর কটাক্ষ, “কে কী বলছে আমি বলব না। তবে টেকনিক্যাল বিষয়গুলো না জেনে মন্তব্য করা ঠিক নয়। আমি তো বলিনি রাত দশটার মধ্যে জল বেরিয়ে যাবে। এর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে, বাস্তব দিক দেখতে হয়।”
এতদিন যে সমন্বয়ের ছবি কলকাতা পুরসভায় দেখা গিয়েছে, তাতে এই দ্বৈত সুরে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক পরিকল্পনা নিয়েও। প্রশ্ন উঠছে, মেয়র কোন তথ্যের ভিত্তিতে আশ্বাস দিলেন? আর তাঁরই দলের মেয়র পরিষদ সদস্য কেন বলছেন উল্টো কথা?
এদিকে বুধবারও কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবারও সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর। ফলে নতুন করে বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি যে কোথায় গড়াবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় শহরবাসী।