সোমবার শীর্ষ আদালত সেই মামলায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল। উল্টে জনস্বার্থবাহী প্রকল্পে ‘রাজনীতি’ এবং ‘গাফিলতি’র অভিযোগে রাজ্যকে চরম ভর্ৎসনা করেছেন বিচারপতিরা।

চিংড়িঘাটা মেট্রো
শেষ আপডেট: 23 March 2026 13:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিংড়িঘাটা মেট্রো (Chingrighata Metro) প্রকল্পের থমকে থাকা কাজ নিয়ে ফের ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। কলকাতা হাইকোর্টের (Kolkata High Court) নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কিন্তু সোমবার শীর্ষ আদালত সেই মামলায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল। উল্টে জনস্বার্থবাহী প্রকল্পে ‘রাজনীতি’ এবং ‘গাফিলতি’র অভিযোগে রাজ্যকে চরম ভর্ৎসনা করেছেন বিচারপতিরা।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। শুনানির শুরুতেই আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, হাইকোর্টের নির্দেশের ওপর তারা কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। বরং রাজ্য সরকারকে মামলাটি তুলে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিচারপতিরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, নিজে থেকে মামলা না সরালে আদালত তা সরাসরি খারিজ করে দেবে।
চিংড়িঘাটা মেট্রোর বকেয়া কাজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ রাজ্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে আসছিল। এই জট কাটাতে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ এড়াতেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল নবান্ন।
এদিন শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি অত্যন্ত কড়া ভাষায় রাজ্যের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “জনসাধারণের প্রকল্প নিয়ে রাজনীতি করবেন না। হাইকোর্ট যে সময় বেঁধে দিয়েছে, সেই অনুযায়ীই কাজ হবে। হাইকোর্টই পুরো বিষয়টি তদারকি করবে।” আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্প নিয়ে রাজ্যের এই অনড় অবস্থান আসলে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতি। উন্নয়নের কাজ আটকে রাখার জন্য ‘জেদ’ ধরা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত।
রাজ্যের আইনজীবীর যুক্তি খণ্ডন করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “কখনও বলছেন উৎসব, কখনও পরীক্ষা, আর এখন বলছেন নির্বাচন চলছে। আপনাদের সুযোগ দিচ্ছি, মামলাটি তুলে নিন। নাহলে আমরা এটি খারিজ করে দেব।” আদালতের এই কড়া মনোভাবের পর চিংড়িঘাটা মেট্রোর জট কাটানো এবং হাইকোর্টের নির্দেশ পালন করা ছাড়া রাজ্যের সামনে আর কোনও বিকল্প রইল না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।