নিউ গড়িয়া (New Garia) থেকে বিমানবন্দর (Airport Metro) পর্যন্ত মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু চিংড়িঘাটা মোড়ের একটি ছোট্ট অংশ— মাত্র ৩১৬ বর্গমিটার ঘিরেই আটকে রয়েছে গোটা প্রকল্প।

জট ছাড়ছে না চিংড়িঘাটা মেট্রোর
শেষ আপডেট: 11 February 2026 14:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিংড়িঘাটায় মেট্রো (Chingrighata Metro) প্রকল্পের জট কাটছে না। উল্টে রাজ্য বনাম কেন্দ্রের টানাপড়েন আরও এক দফা বাড়ল। কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court) সময় বেঁধে বকেয়া কাজ শেষ করার নির্দেশ দিলেও, তার আগেই সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সোমবার শীর্ষ আদালতে এ নিয়ে মামলা দায়ের হয়েছে। আগামী সপ্তাহে শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
নিউ গড়িয়া (New Garia) থেকে বিমানবন্দর (Airport Metro) পর্যন্ত মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু চিংড়িঘাটা মোড়ের একটি ছোট্ট অংশ— মাত্র ৩১৬ বর্গমিটার ঘিরেই আটকে রয়েছে গোটা প্রকল্প। ওই জায়গায় তিনটি পিলার বসানো বাকি। অভিযোগ, কাজের স্বার্থে ইএম বাইপাসে সাময়িক যানবাহন নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। কিন্তু সেই ট্রাফিক ব্লকের অনুমতি (এনওসি) রাজ্য দিচ্ছে না বলেই কাজ এগোচ্ছে না।
এই অচলাবস্থা গড়ায় আদালতে। হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। শুনানিতে আদালত রাজ্য সরকার, কলকাতা পুলিশের কমিশনার, জয়েন্ট সিপি (ট্রাফিক) ও ডেপুটি সিপি (ট্রাফিক)-কে প্রয়োজনীয় এনওসি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালতের বক্তব্য ছিল, জনস্বার্থে যান চলাচল ঘুরিয়ে দিয়ে প্রকল্পের কাজ এগোতে হবে।
গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, সব পক্ষ মেট্রো রেল ভবনে বৈঠকে বসে সমাধান খুঁজবে। সেই অনুযায়ী রাজ্য, কেন্দ্র, নির্মাণকারী সংস্থা আরভিএনএল-সহ সংশ্লিষ্টরা বৈঠক করেন। সিদ্ধান্ত হয়, উৎসবের মরসুম কাটলেই নভেম্বরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহান্তে পিলার বসানোর কাজ হবে। নির্মাণকারী সংস্থা জানিয়েছিল, নভেম্বরে কাজ শুরু করতে পারলে নয় মাসে পুরো লাইন চালু করা সম্ভব। কিন্তু পরে আরভিএনএল জানায়, প্রয়োজনীয় অনুমতি মেলেনি। তারা ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়।
রাজ্যের বক্তব্য ছিল, বর্ষবরণ ও গঙ্গাসাগর মেলার মতো বড় অনুষ্ঠান চলাকালীন রাতের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে মামলাকারীদের আইনজীবীর দাবি, আগের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা রাজ্য দেয়নি। মাত্র তিন রাতের সুযোগ পেলেই পিলারের কাজ শেষ করা যেত। অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতে বলেন, এনওসি দেওয়ার সময় নির্ধারণ প্রশাসনিক বিষয়— আদালত তারিখ বেঁধে দিতে পারে না। এর জবাবে আদালত পর্যবেক্ষণ করে, “ভারত উৎসবের দেশ। উৎসবের অপেক্ষায় থাকলে কোনও উন্নয়নমূলক কাজই এগোবে না।”
২৩ ডিসেম্বর হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে টানা দু’টি সপ্তাহান্তে রাতের ট্রাফিক ব্লকের দিন চূড়ান্ত করতে হবে। ৬ জানুয়ারির মধ্যে তা আরভিএনএল ও মেট্রো কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের বেঞ্চ জানিয়েছিল, সব পক্ষ সমন্বয় রেখে জনস্বার্থে কাজ এগিয়ে নিক। কিন্তু বাস্তবে চিংড়িঘাটায় কাজ এখনও থমকে।
এই প্রেক্ষাপটেই রাজ্যের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া নতুন করে বিলম্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের পর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও অভিযোগ করেছিলেন, রাজ্যের অসহযোগিতার কারণেই চিংড়িঘাটার কাজ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে রয়েছে। তাঁর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুমতি না থাকায় প্রকল্প এগোতে পারছে না।”