সিবিআই জানায়, ১০ জুন থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন করে সাত জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। ৩২টি সিসিটিভি ফুটেজ পুনরায় খতিয়ে দেখা হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 16 July 2025 18:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের মামলায় (RG Kar Case) শিয়ালদহ আদালতে (Sealdah Court) ষষ্ঠ স্ট্যাটাস রিপোর্ট (Status Report) জমা দিল সিবিআই (CBI)। এই রিপোর্ট জমা পড়ার পরে ফের ক্ষোভ উগরে দেন নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী।
বুধবার শিয়ালদহ আদালতে সিবিআই জানায়, ১০ জুন থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন করে সাত জনের বয়ান রেকর্ড (Statement Record) করা হয়েছে। ৩২টি সিসিটিভি ফুটেজ পুনরায় খতিয়ে দেখা হয়েছে। তদন্ত এখনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের দিকেই এগোচ্ছে।
কিন্তু নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি প্রশ্ন তুলেছেন, কলকাতা পুলিশের তদন্ত যেখানে শেষ হয়েছিল, সিবিআইও কি সেখানে আটকে আছে? নতুন কোনও তথ্যই কি উঠে আসেনি? যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত চার্জশিট কেন দেওয়া গেল না?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল এবং সিবিআইয়ের সিনিয়র অফিসার সম্পত মীনার ‘ব্যাচমেট’ হওয়া নিয়ে। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, ব্যাচমেট সম্পত মীনা কি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে পারবেন?
তবে এই অভিযোগ স্পষ্টভাবে নাকচ করেছে সিবিআই। আদালতে সিবিআইয়ের স্পেশাল পিপি জানিয়েছেন, “ব্যাচমেট হওয়া কোনও অপরাধ নয়। বিনীত গোয়েলের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”
সিবিআইয়ের দাবি, অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের ডিএনএ নমুনা মিলেছে। বাইকের ট্রাফিক ফুটেজও খতিয়ে দেখা হয়েছে। কিন্তু নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষের আইনজীবীর পাল্টা প্রশ্ন, “ওই রাতে হাসপাতালে যে চারজন চিকিৎসক ছিলেন, তাদের কেন সিবিআই হেফাজতে নেয়নি? দুই-তিনটি বিকল্প রাস্তাও ছিল। শুধুমাত্র একটিমাত্র সিসিটিভি ফুটেজের উপর ভরসা করা হচ্ছে কেন?”
আদালতও জানতে চেয়েছে, তদন্ত কতদূর এগোল, কী অগ্রগতি হয়েছে। সিবিআই জানায়, সব মিলিয়ে ৩২টি ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের লাই ডিটেকশন টেস্টও করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
সিবিআই আরও দাবি করেছে, হাথরস কাণ্ডে যেমন মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও তদন্ত করা হয়েছে, এখানেও তদন্তে কোনও রকম পক্ষপাত হচ্ছে না। তবে তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব নয়।