আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার বাবা-মা কলকাতা হাইকোর্টে যে আর্জি জানিয়েছেন তাতে আপত্তি নেই বলে জানাল সিবিআই।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 June 2025 17:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর কাণ্ডের (RG Kar Case) নির্যাতিতার বাবা-মা কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) যে আর্জি জানিয়েছেন তাতে আপত্তি নেই বলে জানাল সিবিআই। তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আবেদন জানিয়েছিলেন আদালতে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তরফে জানান হয়েছে, নির্যাতিতার বাবা-মা যদি অকুস্থল পরিদর্শন (Case of Occurrence) করতে চান তাহলে সমস্যা নেই।
এই মামলার গত শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি জানিয়েছিলেন, এখনও ঘটনাস্থল বা 'প্লেস অফ অকারেন্স' পরিদর্শন করতে দেওয়া হয়নি। সেই মামলার শুনানিতে মঙ্গলবার আদালতে সিবিআই জানিয়েছে, নির্যাতিতার পরিবার ঘটনাস্থল দেখতে চাইলে আপত্তি নেই। এরপরই বিচারপতি নির্যাতিতার পরিবারকে এই বিষয়ে লিখিত আবেদন করতে বলেন।
নির্যাতিতার পরিবার শুরু থেকেই সিবিআই তদন্তে খুশি ছিলেন না। মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলেও মৃতার পরিবারের দাবি, সে একা জড়িত নয়, আরও অনেকে রয়েছে। এর আগে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষও প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘‘এটি গণধর্ষণের ঘটনা, না কি নয়?’’ তিনি সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, কেস ডায়েরি জমা দেওয়ার জন্য। এখনও পর্যন্ত এই বিষয়টি নিয়ে কোনও রকম খোলসা করতে পারেনি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাও। এবার নির্যাতিতার পরিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর কী বক্তব্য রাখে, সেটাই দেখার।
গত বছর অগস্ট মাসে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল গোটা দেশজুড়ে। হাসপাতালের ভিতরে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন রাজ্যের চিকিৎসক মহল থেকে সাধারণ নাগরিকরাও। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারপর্বের পর শেষমেশ রায় ঘোষণা হয়। শিয়ালদহ আদালত মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনায়।
সিবিআই তদন্ত নিয়ে অবশ্য একাধিক প্রশ্ন উঠেছে যার উত্তর এখনও মেলেনি। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে এও অভিযোগ উঠেছে, তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে শেষবার যাঁরা ছিলেন তাঁদের হেফাজতে নেওয়া তো দূর, এখনও পর্যন্ত ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। অর্থাৎ 'লাস্ট সিন থিওরি' মেনে তদন্ত হয়নি। পাশাপাশি এও অভিযোগ, পুরনো স্ট্যাটাস রিপোর্টের পয়েন্ট ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সিবিআই অবশ্য বারবার বলছে, তদন্ত এখনও চলছে।