দীর্ঘদিন তৃণমূলের শ্রমিক রাজনীতির অন্যতম মুখ কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব। INTTUC–র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি থেকে শুরু করে বিধানসভায় তৃণমূলের (TMC) ডেপুটি লিডারের পদ— রাজনৈতিক ও সংগঠনিক দুই মঞ্চেই সক্রিয় তিনি।

শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 28 November 2025 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী তো বটেই, একই সঙ্গে বহু বছর ধরে সিইএসসি–র (CESC) তৃণমূল ঘনিষ্ঠ কর্মী সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বও সামলাচ্ছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chatterjee)। আদৌ কি এই দুই ভূমিকা একসঙ্গে পালন করা যায়? এই প্রশ্ন ঘিরেই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা (Kolkata High Court) পৌঁছে গেল। শুক্রবার সেই মামলারই শুনানি।
দীর্ঘদিন তৃণমূলের শ্রমিক রাজনীতির অন্যতম মুখ কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব। INTTUC–র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি থেকে শুরু করে বিধানসভায় তৃণমূলের (TMC) ডেপুটি লিডারের পদ— রাজনৈতিক ও সংগঠনিক দুই মঞ্চেই সক্রিয় তিনি। কিন্তু সিইএসসি–তে সম্প্রতি একটি নতুন শ্রমিক সংগঠন গজিয়ে উঠেছে, যেখানে শোভনদেবের পুরনো সংগঠনেরই কিছু প্রাক্তন সদস্য যুক্ত হয়েছেন। তাঁরাই এখন অভিযোগ তুলেছেন— মন্ত্রী হয়ে কীভাবে বেসরকারি বিদ্যুৎ সংস্থার শ্রমিক সংগঠনের সভাপতির পদ ধরে রাখতে পারেন শোভনদেব (Kolkata News)!
এ ব্যাপারে হাইকোর্ট মামলাটি গ্রহণ করেছে। আজই শুনানিতে হাজির থাকবেন মন্ত্রীর আইনজীবী। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, শোভনদেববাবু বহু বছর ধরেই এই দায়িত্ব পালন করছেন। আগেও রাজ্যের নানা মন্ত্রী ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃত্বে ছিলেন। আইনভঙ্গের কোনও প্রশ্নই নেই।
তবে আদালত–যুদ্ধের আড়ালে রাজনৈতিক (Political News) তরঙ্গও চোখে পড়ছে। নতুন সংগঠনটি গড়েছেন এমন বহু কর্মী একসময় তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনেরই অংশ ছিলেন। তাই ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে প্রশ্ন— বর্ষীয়ান নেতার বিরুদ্ধে এই আইনি লড়াই কি দলেরই একাংশের নীরব সমর্থনে?
যদিও শাসকদলের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এখন নজর সবার কলকাতা হাইকোর্টে। শুনানিতে কী রায় আসে, সেটাই ঠিক করবে এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়।
বস্তুত, এর আগে সমবায়ের উন্নতির জন্য সিইএসসি-র (CESC) পক্ষ থেকে প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা তৃণমূলের (TMC) ফান্ডে গেছে বলে অভিযোগ তুলে শোভনদেবের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের (Kolkata High Court News) দ্বারস্থ হয়েছিল সংস্থারই এক কর্মী।
শুধু তাই নয়, এই নির্বাচনে কারচুপি নিয়েও শোভনদেবকে (Sovandeb Chatterjee News) বিঁধেছিলেন ওই মামলাকারী। অভিযোগ তোলেন, ভোটের আগে মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়ে প্রভাব খাটানো হয়েছে। তৃণমূল ঘনিষ্ট ছাড়া কাউকেই মনোনয়ন জমা দিতে দেওয়া হয়নি। এমন কী, কেউ মনোনয়ন জমা দিতে চাইলে তাঁকে মারধরও পর্যন্ত করা হয়েছে বলে আদালতে জানান সংস্থার কর্মী।