প্রথমে এই অবস্থান-বিক্ষোভ করতে চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রাক্তন সেনা আধিকারিকরা। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও অনুমতি দেয়নি। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছিল, সেখানে বিদ্যুতের কাজ চলছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 September 2025 17:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্মতলায় গান্ধী মূর্তির পাদদেশে তৃণমূলের প্রতিবাদ মঞ্চ (TMC Stage) খোলা নিয়ে ভারতীয় সেনার (Indian Army) কার্যত সমালোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতায় প্রাক্তন সেনা আধিকারিকদের একাংশ ধর্নায় বসতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই অনুমতি মিলল। বৃহস্পতিবার এই অবস্থান-বিক্ষোভ করতে পারবেন তাঁরা।
গান্ধী মূর্তির পাদদেশে প্রাক্তন সেনা কর্মীদের বিক্ষোভ-অবস্থানের অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। শর্তসাপেক্ষে এই অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ (Justice Tirthankar Ghosh)। তাঁর নির্দেশ, প্রাক্তন সেনাদের অবস্থানে কোনও রাজনৈতিক নেতা (বিজেপি) উপস্থিত থাকতে পারবে না। পাশাপাশি, ৩০০ জনের বেশি সদস্য নিয়ে এই ধর্না করা যাবে না। আর দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে এই বিক্ষোভ।
প্রথমে এই অবস্থান-বিক্ষোভ করতে চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রাক্তন সেনা আধিকারিকরা। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও অনুমতি দেয়নি। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছিল, সেখানে বিদ্যুতের কাজ চলছে। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট আবেদনকারীদের অনুমতি দিয়েছে। এতএব, ধর্নায় আর কোনও বাধা নেই।
তৃণমূলের মঞ্চ খোলার ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ক্ষোভের সুরে বলেছিলেন, এই কাজ সেনার নয়, বিজেপির (BJP) কথায় তাঁরা কাজ করেছে। তৃণমূল দাবি করে, এজেন্সি, নির্বাচন কমিশন দিয়ে না পেরে শেষে তাঁদের ঠেকাতে সেনাকে ব্যবহার করছে বিজেপি। বিষয়টি নিয়ে বিধানসভাতেও শোরগোল হয়। সেই বিতর্কের আগুনে আরও ঘি পড়ল কারণ প্রাক্তন সেনাকর্মীরা (Ex Army) প্রতিবাদে ধর্নায় বসতে চলেছেন।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ভারতীয় সেনাকে অপমান করার সাহস দেখিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর জবাব মানুষ দেবে। এই প্রেক্ষিতেই তিনি তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন। এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এই ঘটনার সঙ্গে পাকিস্তান সেনার কর্মকাণ্ডের তুলনা টানায় হইচই পড়ে যায়। বিজেপি তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করে হইহট্টগোল শুরু করলে বিধানসভার অধ্যক্ষ শুভেন্দু অধিকারীকে সাসপেন্ড করে দেন। যে বিষয় নিয়ে আবার আলাদা করে বিতর্ক।