কমিশনের দাবি, রাজ্যের গড়িমসি শুধু নির্দেশ অমান্য নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকেই চ্যালেঞ্জ করছে। এ বিষয়ে আদালত রাজ্যের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাইলেই সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 10 September 2025 17:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকায় কারচুপি (Voter List Tampering) নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ রাজ্যের বিরুদ্ধে (West Bengal)।
নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) স্পষ্ট দাবি, চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল রাজ্য সরকারকে। অথচ সেই নির্দেশ অমান্য করে রাজ্য মাত্র দু'জনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে, কিন্তু কোনও আধিকারিকের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করেনি। এই অবস্থানে ক্ষুব্ধ কমিশন (Election Commission) এবার কলকাতা হাইকোর্টে (Calcuta High Court) জানিয়েছে, আদালত প্রয়োজনে রাজ্যের কাছে তথ্য তলব করুক—কে বা কারা নির্দেশ অমান্য করেছে এবং কেন।
মামলা চলছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের প্রাক্তন বিডিও অরুণ গরাইনকে ঘিরে। অভিযোগ, ভোটার তালিকায় বেআইনি নামে ছাড়পত্র দিতে গিয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। মামলাকারী পক্ষ দাবি করেছে, এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক সিবিআই-এর মাধ্যমে। সেই মামলার শুনানিতেই কমিশন আদালতকে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কারচুপির অভিযোগ ওঠার পরেই চার জন আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করারও স্পষ্ট নির্দেশ পাঠানো হয় রাজ্যকে।
কিন্তু বাস্তবে কী হয়েছে? কমিশনের বক্তব্য, দুই আধিকারিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও, বাকিদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকী কারও বিরুদ্ধেই এফআইআর হয়নি। কমিশনের আশঙ্কা, এইভাবে কোনও মহল থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে অভিযুক্তদের আড়াল করা হচ্ছে। কারা সেই নির্দেশ দিচ্ছে, সে প্রশ্নও তুলেছে কমিশন।
কমিশনের দাবি, রাজ্যের গড়িমসি শুধু নির্দেশ অমান্য নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকেই চ্যালেঞ্জ করছে। এ বিষয়ে আদালত রাজ্যের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাইলেই সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
এই মুহূর্তে রাজ্যে শুরু হয়েছে Special Intensive Revision (SIR) প্রক্রিয়া। কমিশনের বক্তব্য, খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। এই সংশোধনের মাধ্যমেই অবৈধ নাম বাদ পড়বে এবং প্রকৃত ভোটারদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে।
রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে প্রশাসনিক মহলেও। কমিশনের রিপোর্টকে ঘিরে মামলার পরবর্তী শুনানিতে কী অবস্থান নেয় আদালত, সে দিকেই এখন নজর সকলের।