বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নভেম্বর মাসে তো আর ফেরা যাবে না, তাই দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে রাজ্যকে নতুন করে আদালতের কাছে সময়সূচি দিতে হবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 8 December 2025 17:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্প (Chingrighata) ঘিরে রাজ্যের গড়িমসির বিরুদ্ধে ফের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আশ্বাস সত্ত্বেও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ না হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ এদিন সরাসরি প্রশ্ন তোলে - বৈঠকে কথা দেওয়ার পরও প্রতিশ্রুতি পালন হল না কেন?
আদালত এডভোকেট জেনারেলকে (Adv General) উদ্দেশ করে বলে, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন প্রকল্প। কাজ সম্পূর্ণ হলে রাজ্যের সাধারণ মানুষেরই উপকার হবে। অথচ রাজ্য নিজে ট্রাফিক ব্লকের (Traffic Block) সময় চূড়ান্ত করা সত্ত্বেও এখন নতুন যুক্তি দেখানো হচ্ছে, এটা কীভাবে গ্রহণযোগ্য?
এ সময় এডভোকেট জেনারেল জানান, নির্ধারিত এলাকায় ব্লক করে দিলে অ্যাম্বুল্যান্সের (Ambulance) মতো জরুরি পরিষেবার চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি বেঞ্চ। বিচারপতির মন্তব্য, “যে সমস্যার কথা আজ বলছেন, তা তো যে কোনও সময়ই ঘটতে পারে। কাজ যখনই শুরু হবে, এমন অসুবিধা থাকবেই। তাই বলে এত বড় প্রকল্প কি থেমে থাকবে?”
এই পরিপ্রেক্ষিতে বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নভেম্বর মাসে তো আর ফেরা যাবে না, তাই দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে রাজ্যকে নতুন করে আদালতের কাছে সময়সূচি দিতে হবে। সেই প্রতিবেদনে নতুন কোনও অজুহাত শুনতে রাজি নয় আদালত। বরং দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপের ওপরই জোর দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।
দীর্ঘ সময় ধরে চিংড়িঘাটা মেট্রো (Chingrighata Metro) সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশনকে (Kolkata Metro)। এ নিয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই গত ৫ ডিসেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলকে তলব করে। জটিলতা কীভাবে কাটানো যায় তা জানতেই মূলত তাঁকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সোমবারের শুনানিতে স্পষ্ট, আদালত সন্তুষ্ট নয়।
ইতিমধ্যে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, নোয়াপাড়া থেকে বারাসত পর্যন্ত প্রস্তাবিত ১৮ কিমি মেট্রো লাইনে ৬.৭৭ কিমি অংশে (নোয়াপাড়া থেকে এয়ারপোর্ট) পরিষেবা চালু হয়ে গিয়েছে। এয়ারপোর্ট থেকে মাইকেলনগর পর্যন্ত কাজ চলছে। কিন্তু জমি জটের কারণে নিউ ব্যারাকপুর থেকে বারাসত পর্যন্ত ৭.৫ কিমি পর্যন্ত কাজ থমকে আছে। সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা মিলছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন রেলমন্ত্রী।