এনআরএস মেডিক্য়াল কলেজের তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া প্রণবেশ ঘোষ বললেন, "এই প্রকল্পে একদম বিনে পয়সায় নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। অফলাইন ও অনলাইন দুটো মোডেই ক্লাস হত। যাঁরা পড়াতেন তাঁরা প্রত্যেকেই খুব অভিজ্ঞ। সবরকমভাবে পাশে ছিলেন তাঁরা।"

শেষ আপডেট: 24 November 2025 14:27
উচ্চশিক্ষায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েদের সুযোগ বাড়াতে রাজ্য সরকার শুরু করেছিল স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রকল্প। আর সেই ভাবনাকে সামনে রেখে ডোমজুড় টিম দেখেছিল নতুন স্বপ্ন। ডাক্তারি ও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে ইচ্ছুক অভাবী মেধাবীদের তৈরি করতে ২০২১ সালে শুরু হয় বিনামূল্যে জয়েন্ট ও নিটে কোচিং। চার বছরে প্রায় দেড়শো পড়ুয়া সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পেয়েছেন, যা গোটা ডোমজুড়ে আলোড়ন ফেলেছে। এলাকার সমস্ত স্কুল তাদের মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পড়ুয়াদের পাঠাচ্ছে ‘আগামীর অভিষেক' প্রকল্পের সরিক হতে।
রবিবার আনন্দনগর সাপুঁইপাড়ার বি এড কলেজে অনুষ্ঠিত হল ‘আগামীর অভিষেক’ প্রকল্পের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা দেওয়া হল এই প্রকল্পে পড়াশোনা করে সফল হওয়া ছাত্র ছাত্রীদের। এনআরএস মেডিক্য়াল কলেজের তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া প্রণবেশ ঘোষ বললেন, "এই প্রকল্পে একদম বিনে পয়সায় নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। অফলাইন ও অনলাইন দুটো মোডেই ক্লাস হত। যাঁরা পড়াতেন তাঁরা প্রত্যেকেই খুব অভিজ্ঞ। সবরকমভাবে পাশে ছিলেন তাঁরা। আমি নিটে ৬২৪ নম্বর পেয়ে এনআরএস মেডিক্য়াল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাই। আমার বাড়ির ক্ষমতাই ছিল না আমাকে বেসরকারি কোনও কোচিং সেন্টারে পড়ানোর।"
এই প্রকল্পে পড়াশোনা করে সফল ডোমজুড়ের ছাত্রী সোহিনী দাস রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পড়ুয়া। তাঁর কথায়, আমাদের স্কুল থেকেই বলা হয়েছিল এই কোচিং এর কথা। তারপরেই নাম এনরোল করি। কারণ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছে থাকলেও জয়েন্টের কোচিং নেওয়ার জন্য বেসরকারি কোনও কোচিং সেন্টারে আমাকে ভর্তি করার ক্ষমতা পরিবারের ছিল না। এখানে ভর্তি হয়েই আমি আমার স্বপ্নকে ছুঁতে পেরেছি।"
প্রণবেশ-সোহিনীদের মতো আরও অনেককে দেখে রীতিমতো উজ্জীবিত এবার যারা ‘আগামীর অভিষেক’ প্রকল্পের আওতায় এলেন সেই সব ছাত্রছাত্রীরা। অংশু পোল্লে-সৃজা গুহদের কথা, "আমাদের স্কুল থেকেই এই ফ্রি কোচিং ক্যাম্পের খবর পাই। নাম এনরোল করেছি। এতজন দাদা-দিদি যখন পেয়েছে, আমরাও নিশ্চয়ই পারব।"
ডোমজুড় বিধানসভার বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী যখন উচ্চশিক্ষায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েদের সুযোগ বাড়াতে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পের সূচনা করছিলেন, তারপরেই আমরা টিম ডোমজুড় এই প্রকল্পের চিন্তাভাবনা শুরু করি। কারণ জেইই বা নিট পরীক্ষার আগে সঠিক কোচিং না পেলে মেধাবীরাও পিছিয়ে পড়তে পারে। তাই এই প্রকল্পের সূচনা হয়। গত চার বছরে ২৫ জন ইঞ্জিনিয়ার এবং ১৫ জন ডাক্তার তৈরি করতে পেরেছে এই উদ্যোগ। এবারের শিবিরে ৮০ জন ছাত্রছাত্রী নিজেদের নাম লিখিয়েছে।"
অভিভাবকদের দাবি, এই প্রকল্প এখন বহু পরিবারকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। তাঁদের সন্তানরাও যাতে সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা করতে পারে তার জন্য এখানে আসছেন অনেক বাবা-মা।