রোজভ্যালি মামলার ফরেন্সিক অডিট করতে অপারগ বলে কলকাতা হাইকোর্টকে জানাল ক্যাগ। সেবির পর আরও এক কেন্দ্রীয় সংস্থা পিছিয়ে আসায় প্রশ্নের মুখে তদন্তের ভবিষ্যৎ।

হাইকোর্ট (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 25 November 2025 17:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি (SEBI) না বলেছিল আগেই। তার পর ফের পিছিয়ে এল দেশের অন্যতম শীর্ষ সংস্থা কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল অফ ইন্ডিয়া বা ক্যাগ (CAG)।
রোজভ্যালি (Rose Valley) তদন্তকারী কমিটির বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ফরেন্সিক অডিট (Forensic Audit) করার দায়িত্ব নিতে তারা অপারগ, কলকাতা হাইকোর্টকে (Calcutta High Court) লিখিতভাবে জানাল কেন্দ্রীয় এই প্রতিষ্ঠান। পর পর কয়েক দফা সময় নেওয়ার পর অবশেষে মঙ্গলবার ক্যাগের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
ফলে আদালতের সামনে নতুন পথ খুঁজে নেওয়া ছাড়া আর উপায় থাকছে না। বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, এ বার রাজ্যের অর্থদফতরের (State Finance Department) হাতে অডিটের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। শুধু অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দিলীপ শেঠ কমিটির (Justice Dilip Seth Committee) হিসেবনিকেশই নয়, কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ইডি (ED) যে দুই-তিন হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে, সেই সম্পত্তির মূল্যায়ন-সহ পুরো হিসেবও খতিয়ে দেখতে হবে অর্থদফতরকেই, এমনই ইঙ্গিত আদালতের।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২ ডিসেম্বর। সে দিন চাইলে রাজ্য সরকার তাদের বক্তব্য আদালতে জানাতে পারবে। তার পরেই হাইকোর্ট চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
রোজভ্যালি বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থায় আমানত রাখা বহু মানুষ পরে প্রতারিত হন। সেই আমানতকারীদের টাকা ফেরাতে হাইকোর্ট অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দিলীপ শেঠের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছিল। কিন্তু কিছুদিন আগেই সেই কমিটির বিরুদ্ধেই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগগুলির নথিভুক্ত অডিট করার দায়িত্ব প্রথমে সেবিকে দিতে চেয়েছিল আদালত। কিন্তু সেবি জানিয়ে দেয়, তাদের কাছে এই কাজে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো (Infrastructure) ও প্রশিক্ষিত জনবল নেই। তাই ফরেন্সিক অডিটের দায়িত্ব তারা নিতে পারবে না।
এর পরই নজর যায় ক্যাগের দিকে এবং কেন্দ্রকে জানাতে বলা হয় ক্যাগ এই দায়িত্ব নিতে পারবে কি না। ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমা পেরিয়ে অবশেষে ক্যাগও জানিয়ে দিয়েছে, এই অডিট করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
ফলে এখন বিকল্প হিসেবে রাজ্যের অর্থদফতরই আদালতের প্রধান ভাবনায়। তাদের কি এই দায়িত্ব দেওয়া যাবে, তারা কি এতে সম্মত, তা স্পষ্ট হবে আগামী শুনানিতে।
রোজভ্যালি-সহ একাধিক চিটফান্ড (Chit Fund) মামলায় বহু মানুষের জীবনজমানো টাকা আটকে রয়েছে। সেই টাকার হিসেব-নিকেশে স্বচ্ছতা ফেরানোর লক্ষ্যে আদালতের এই তৎপরতা নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। এখন দেখার, অর্থদফতরকে দায়িত্ব দিলে তদন্ত কতটা গতি পায় এবং পুরো প্রক্রিয়া কোন পথে এগোয়।