আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রায় এক বছর ধরে ব্যাঙ্কে জমে থাকা ৫০০ কোটি টাকা আমানতকারীদের ফেরানোর উদ্যোগ নেয়নি এডিসি।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 19 September 2025 19:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোজভ্যালি-কাণ্ডে (Rosevalley's property) টাকা ফেরানোর দায়িত্বে থাকা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দিলীপ শেঠ কমিটির বিরুদ্ধে উঠল আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ((Market price vs. selling price)। সেই প্রেক্ষিতেই সেবিকে ফরেনসিক অডিট করানোর নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ শুক্রবার স্পষ্ট জানিয়ে দিল, রোজভ্যালির সম্পত্তি বিক্রির প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে খতিয়ান পর্যন্ত সবকিছুর হিসেব-নিকেশ খতিয়ে দেখতে হবে সেবিকে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সেবিকে তিনটি বিষয় স্পষ্ট করতে হবে—
১. রোজভ্যালির ১০টি সম্পত্তি বিক্রির রিপোর্ট জমা দিতে হবে। বাজারদরের তুলনায় কত বেশি বা কম দামে বিক্রি হয়েছে, তার বিস্তারিত জানাতে হবে।
২. রোজভ্যালির যাবতীয় হিসেবনিকেশ বৈধ কি না, তা ফরেনসিক অডিট করিয়ে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
৩. পাশাপাশি, চকলেট গ্রুপ থেকে এডিসি কীভাবে টাকা নিল, সেটি কতটা বৈধ, তাও খতিয়ে দেখতে হবে।
যদিও সেবির ভূমিকা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে এডিসি। তাদের আইনজীবীর দাবি, আদালত চাইলে যে কোনও স্বাধীন সংস্থা দিয়ে অডিট করাতে পারে। কিন্তু সেবি ‘অ্যাকাউন্টস’ বিশেষজ্ঞ নয়। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—“সিবিআই, ইডি তদন্ত করছে ঠিকই, কিন্তু ফরেনসিক অডিট হয়নি। সেবির একটি বিশেষ উইং আছে অ্যাকাউন্টস নিয়ে। তাই এই দায়িত্ব তাদেরই দেওয়া হচ্ছে।”
আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এডিসির উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, “আপনাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ আছে কি? কেন এত আপত্তি?” আদালতও মন্তব্য করে, “প্রথমে অডিট রিপোর্ট আসুক। তার পরেই বাকি আলোচনা।”
আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রায় এক বছর ধরে ব্যাঙ্কে জমে থাকা ৫০০ কোটি টাকা আমানতকারীদের ফেরানোর উদ্যোগ নেয়নি এডিসি। সেটিও নজরে রাখা হচ্ছে।
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি। তার আগেই সেবিকে প্রথম রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।