সপ্তাহের প্রথমই কলকাতা মেট্রোর ব্লু লাইনে পরিষেবা ব্যাহত। একাধিক স্টেশনে মেট্রো না চলায় অফিস টাইমে চরম ভোগান্তির শিকার হলেন যাত্রীরা।
.jpg.webp)
কলকাতা মেট্রো
শেষ আপডেট: 5 January 2026 09:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সপ্তাহের প্রথম দিনই চরম ভোগান্তিতে পড়লেন নিত্যযাত্রীরা। ব্লু লাইনে (Blue Line) মেট্রো পরিষেবায় বড়সড় বিভ্রাট দেখা দিল সাত সকালে। আংশিক ভাবে ব্যাহত হয় পরিষেবা, বাতিল করা হয় একাধিক মেট্রো। কী কারণে এই সমস্যা, তা নিয়ে শেষ পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি মেট্রো কর্তৃপক্ষ (Metro Railway)। ফলে অফিস টাইমে নাকাল হতে হয় হাজার হাজার যাত্রীকে।
সোমবার সকালবেলা পরিষেবা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই গোলমাল চোখে পড়ে। শহিদ ক্ষুদিরাম (Shahid Khudiram) থেকে দক্ষিণেশ্বরগামী দু’টি মেট্রো বাতিল করে দেওয়া হয়। হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা। কিছুক্ষণ পর ঘোষণা করা হয়, মহানায়ক উত্তম কুমার (Mahanayak Uttam Kumar) অর্থাৎ টালিগঞ্জ (Tollygunge) থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত মেট্রো চলবে। একই সঙ্গে দক্ষিণেশ্বর থেকে মহানায়ক উত্তম কুমার পর্যন্ত পরিষেবাও চালু থাকবে।
কিন্তু আসল সমস্যাটা ছিল লাইনের মাঝখানে। আপ ও ডাউন-দুই দিকেই কুঁদঘাট (Kudghat) থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত মেট্রো চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। এই অংশে ট্রেন না চলায় যাত্রীদের নামতে হয় মাঝপথেই। অনেকেই বাধ্য হয়ে বাস, অটো বা ট্যাক্সির দিকে ছুটতে থাকেন। সকালবেলার রাস্তায় এমনিতেই চাপ, তার উপর মেট্রো যাত্রীদের ভিড়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
নিত্যদিনের এই মেট্রো বিভ্রাটে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন যাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ, নতুন নতুন রুট উদ্বোধনের পর থেকেই ব্লু লাইনের অবস্থা কার্যত বেহাল। একদিকে মেট্রো সময়মতো চলে না, অন্যদিকে মাঝেমধ্যেই দরজা বন্ধ না হওয়ার মতো যান্ত্রিক সমস্যায় থমকে যায় ট্রেন। অনেক সময় কোনও আগাম নোটিস ছাড়াই মেট্রো বাতিল করে দেওয়া হয়। তার উপর সঠিক ঘোষণার অভাব থাকায় যাত্রীরা বুঝতেই পারেন না, কোন স্টেশন পর্যন্ত পরিষেবা মিলবে।
যাত্রীদের আরও অভিযোগ, এত সমস্যা হওয়া সত্ত্বেও মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। পরিষেবা স্বাভাবিক করতে কী করা হচ্ছে, তা নিয়েও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয় না। ফলে প্রতিদিনই অফিসযাত্রী, পড়ুয়া থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সকলকেই ভরসা করে বেরোতে গিয়ে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।