বিধানসভার মধ্যে প্রবল বিক্ষোভে নেমে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপি বিধায়করা হাতে ছবি ও গেরুয়া উত্তরীয় পরে স্লোগান দিয়েছিলেন।

শুভেন্দু অধিকারী এবং বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 12 June 2025 14:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশন (Bidhansabha) শুরু হতেই মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও মহেশতলার বিষয়ে আলোচনা চেয়েছিল বিজেপি (BJP)। কিন্তু স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (Biman Banerjee) সাফ জানান, 'সাব জুডিস বিষয়ে কোনও আলোচনা নয়।' আগেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে আলোচনা না করতে দিলে বিক্ষোভ হবে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবাদই দেখান তাঁরা।
বিধানসভার মধ্যে প্রবল বিক্ষোভে নেমে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপি বিধায়করা (BJP MLA) হাতে ছবি ও গেরুয়া উত্তরীয় পরে স্লোগান দিয়েছিলেন। তবে হইহট্টোগোলের মধ্যেও বিধানসভা চালিয়ে যান বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, 'নিয়ম পরিষ্কার করে বলে দিয়েছিলাম। তারপরও ওরা বিক্ষোভ চালিয়ে গেছে। আসলে কোনও নিয়ম-কানুন মানে না বিরোধী দল। কারও ওপর কারও নিয়ন্ত্রণ নেই।' স্পিকারের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার একটি ঐতিহ্য রয়েছে। তাতে আঁচ লাগাতে দেওয়া হবে না। এইভাবে বিক্ষোভ দেখিয়ে অধিবেশন বন্ধ করা যাবে না।
বিরতি না নিয়ে বৃহস্পতিবার লাগাতার বিধানসভা চালানোর কারণও ব্যাখ্যা করেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, বিরতি নিলে বিজেপি বাইরে বেরিয়ে ভুল বার্তা দিত। দাবি করত, তাঁরা বিধানসভা বন্ধ করতে পেরেছে। কিন্তু বিষয়টি তা নয়। স্পিকারের কাজ বিধানসভা চালিয়ে যাওয়া, যাই হোক না কেন। বিমানের কটাক্ষ, 'এরা কেউ পরিষদীয় রীতি মানে না। বিরোধী দলের কাউকে ডেকে পাঠালেও কেউ আসে না। তবে অন্য প্রয়োজনে আসে। এই বিষয়গুলি নিয়েও উচিত আমার সঙ্গে আলোচনা করা। কিন্তু ওরা করে না।'
শুভেন্দুদের বিক্ষোভ নিয়ে বিজেপি শিবিরকে আক্রমণ করেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমও (Firhad Hakim)। তাঁর কথায়, বিধানসভা কোনও ধর্মকে বা কাউকে ছোট করার জায়গা নয়। সরকারের সমালোচনা করা যেতেই পারে। কিন্তু নির্দিষ্টভাবে কাউকে আক্রমণ করা হবে, ব্যক্তিগত খোঁচা দেওয়া হবে, অপমান করা হবে, এটা মানা যায় না। ফিরহাদ বলছেন, 'পার্লামেন্ট বা বিধানসভা ধর্ম জাহির করার জায়গা নয়। এটা মানুষের কথা বলার জায়গা।' স্পিকারের সুরেই তাঁর অভিযোগ, বিজেপি কোনও শিষ্টাচার মানে না, নিয়ম মানে না, এমনকী সংবিধানও নয়।
প্রসঙ্গত, সোমবার থেকে শুরু হয়েছে বিধানসভার অধিবেশন। আর এদিন বিধানসভার শুরুতেই মুর্শিদাবাদ, নদিয়ার পাশাপাশি মহেশতলার হিংসার প্রসঙ্গও টেনে আনেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। এ ব্যাপারে সভায় বিজেপির তরফে দুটি প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়। কিন্তু প্রস্তাব পড়তে দিলেও স্পিকার ওই প্রস্তাব খারিজ করে দেন। এর পরেই শুরু হয় বিজেপি বিধায়কদের স্লোগান, বিক্ষোভ। সেই বিক্ষোভের মধ্যেই অবশ্য সভা চালিয়ে নিয়ে যান স্পিকার।