শনিবার রাতে আনন্দপুরের একটি গেস্ট হাউজ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তৌসিফ খান ওরফে বাদশা, নিশু খান-
সহ চারজনকে। চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন নিশু খান।

গুলিকাণ্ডে ধৃত নিশু খান
শেষ আপডেট: 20 July 2025 16:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের হাসপাতালে গ্যাংস্টার খুনে অভিযুক্ত দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করা হয়েছে কলকাতা থেকে। গ্যাংস্টার চন্দন মিশ্রকে খুনের পরই এ শহরে পালিয়ে আসে তারা। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে পুলিশের জালে মোট ১১ জন। রবিবার তাঁদের আলিপুর আদালতে পেশ করা হয় ধৃতদের। যদিও খুনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মূল অভিযুক্ত তৌসিফ খানের ভাই নিশু খান।
শনিবার রাতে আনন্দপুরের একটি গেস্ট হাউজ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তৌসিফ খান ওরফে বাদশা, নিশু খান-
সহ চারজনকে। চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন নিশু খান। সেখান থেকেই তাঁকে এদিন দুপুরে আলিপুর আদালত চত্বরে নিয়ে আসা হয়। বিহার পুলিশের দাবি, এই নিশু খানের বাড়িতে বসেই খুনের ছক কষা হয়েছিল। যদিও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে খুনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
তাঁর কথায়, 'শ্যুটআউটের সময় হাসপাতালে ছিলাম না। কলকাতায় বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। পরশুদিন এসে প্রথমে পার্কস্ট্রীটে যাই। সেখান থেকে নিউটাউনের শাপুরজিতে উঠি। এরপর পার্ক স্ট্রীটে হোটেল না পেয়ে আনন্দপুরের গেস্ট হাউজে উঠেছিলাম।'
বিহার পুলিশ জানিয়েছে, শেরু খান যিনি বর্তমানে পুরুলিয়ার জেলে বন্দি তার কথাতেই এই খুন করেছে তৌসিফ খান। নিশু খানের দাবি, তাঁর দাদা তৌসিফ খানের সঙ্গে জেলেই আলাপ হয়েছিল শেরু, তাকে জামিন পেতেও সাহায্য করেছিল শেরু।
গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ পাটনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ঢুকে এক গ্যাংস্টারকে আইসিইউ-র মধ্যেই গুলি করে খুন করে দুষ্কৃতীরা। নিহতের নাম চন্দন মিশ্র। বিহারের বক্সারের বাসিন্দা চন্দনের নামে ২৪টি ফৌজদারি মামলা ছিল, যার মধ্যে ১২টি খুনের অভিযোগ।
চিকিৎসার জন্য পুলিশের পাহারায় হাসপাতালে ভর্তি ছিল চন্দন। কিন্তু সেই নিরাপত্তা ভেঙেই বৃহস্পতিবার সকালবেলায় এক দল দুষ্কৃতী হাসপাতালে ঢুকে পড়ে এবং আইসিইউ-তেই চন্দনকে গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরই মূল অভিযুক্ত তৌসিফ রাজাকে গ্রেফতার করেছিল পাটনা পুলিশ। তারপর ধরা পড়ছে একে একে বাকিরাও।
খুনের মূল কারণ, প্রাক্তন দুই সঙ্গী চন্দন মিশ্র ও শেরু গ্যাংয়ের নেতৃত্ব শেরুর মধ্যে পুরনো দ্বন্দ্ব। জেলে থাকাকালীন তাঁদের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়, চন্দন পরে ‘শেরু গ্যাং’ নাম ব্যবহার করেই পৃথক গোষ্ঠী গড়ে তোলে। সেই জেরেই এই হামলা, অনুমান পুলিশের। সেই রেষারেষিতেই কি মৃত্যু, আর কে বা কারা এই ঘটনায় যুক্ত রয়েছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এখনও চলছে। কলকাতা এবং পাটনার পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত বলেই জানিয়েছে পুলিশ।