বর্তমানে বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তবে মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন বহু আগে। শিক্ষা দুর্নীতিতে নাম জড়িয়ে জেলও খেটেছেন তিনি। ২০২২ সালের ২৩ জুলাইয়ের সেই ঘটনা এখনও ভোলেনি সাধারণ মানুষ।

ছবিঃ দ্য ওয়াল গ্রাফিক্স
শেষ আপডেট: 17 February 2026 20:54
দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ সামনে বিধানসভা নির্বাচন ( West Bengal Assembly Election )।ইতিমধ্যেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের প্রতিটি কেন্দ্রে তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা। সাধারণ মানুষ কী ভাবছেন, কাকে চাইছেন - সেই জনমত জানতে এবার ‘দ্য ওয়াল’ পৌঁছে গিয়েছে বেহালা পশ্চিম ( Behala Paschim ) বিধানসভা কেন্দ্রে। সরেজমিনে কথা বলেছে বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে। উঠে এসেছে নানান মত, নানান প্রতিক্রিয়া।
বর্তমানে বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায় ( Partha Chatterjee )। তবে মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন বহু আগে। শিক্ষা দুর্নীতিতে নাম জড়িয়ে জেলও খেটেছেন তিনি। ২০২২ সালের ২৩ জুলাইয়ের সেই ঘটনা এখনও ভোলেনি সাধারণ মানুষ। যেদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল কোটি কোটি টাকার বান্ডিল। শিক্ষা দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলও খাটতে হয়েছে তাঁকে। সেই ঘটনার অভিঘাত আজও রয়ে গেছে জনমনে।
ঠিক এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বড় প্রশ্ন, আসন্ন নির্বাচনে বেহালা পশ্চিমের মানুষ কি আবারও পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে চান, নাকি খুঁজছে নতুন কোনও মুখ?
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ‘দ্য ওয়াল’ পেয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একাংশের বক্তব্য স্পষ্ট, দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে আর বিধায়ক হিসেবে দেখতে চান না। তাঁদের কথায়, 'যতই উন্নয়নের কাজ হয়ে থাকুক, দুর্নীতির অভিযোগের পর আমরা পরিবর্তন চাই। পরিষ্কার ভাবমূর্তির একজন প্রতিনিধিই আমাদের প্রয়োজন।' অনেকেই জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন এলাকায় সক্রিয় নেতৃত্বের অভাব রয়েছে।
অন্যদিকে, আরেক অংশের মানুষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের উপর আস্থা রেখে এখনও শাসক দলকেই সমর্থন করার পক্ষপাতী। তাঁদের মুখে শোনা যাচ্ছে লক্ষ্মীর ভান্ডার এবং যুবসাথীর ভুয়সী প্রশংসা।
তাঁদের দাবি, সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প তাদের উপকারে এসেছে। তাই সরকারের প্রতি তাঁদের বিশ্বাস অটুট, এবং মুখ্যমন্ত্রী যাকে প্রার্থী করবেন তাঁকেই সমর্থন জানাতে প্রস্তুত।
তবে সামগ্রিকভাবে শোনা যাচ্ছে পরিবর্তনের সুরই কিছুটা জোরালো। অধিকাংশ মানুষের বক্তব্য, তাঁরা এমন একজন প্রতিনিধিকে চান যিনি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নিয়ে কাজ করবেন এবং এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা নেবেন।
ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে, বেহালা পশ্চিমে এবার লড়াইটা শুধু রাজনৈতিক সমীকরণের নয়, বরং আস্থা, বিশ্বাস ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশার।