সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক অনুষ্ঠানের জন্যও সেখানে বানানো হয়েছিল অস্থায়ী মঞ্চ। তবে সেটি আর সরানো হয়নি। অবশেষে সোমবার সরাসরি উদ্যোগ নিল সেনাবাহিনী।

খোলা হচ্ছে মঞ্চ
শেষ আপডেট: 1 September 2025 15:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা প্রতিবাদী মঞ্চ - ধর্মতলার গান্ধী মূর্তির (Gandhi Statue) পাদদেশ বহুদিন ধরেই শহরের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। প্রায় গোটা বছর জুড়ে নানা দলের কর্মসূচিতে সরগরম থাকে এই চত্বর।
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) একাধিক অনুষ্ঠানের জন্যও সেখানে বানানো হয়েছিল অস্থায়ী মঞ্চ। তবে সেটি আর সরানো হয়নি। অবশেষে সোমবার সরাসরি উদ্যোগ নিল সেনাবাহিনী (Indian Army)।
যুব তৃণমূল থেকে মহিলা তৃণমূল - শাসক শিবিরের নানা কর্মসূচির পর সেই মঞ্চ অক্ষত অবস্থায় পড়ে ছিল। এদিন মঞ্চের জায়গায় গিয়েই সেনার তরফে জানানো হয়েছে, ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা মঞ্চ রাখা যেতেই পারে। কিন্তু দিনের পর দিন কাঠামো গড়ে রেখে দেওয়া যায় না। সেনাবাহিনীর অধীনে থাকা মেয়ো রোড-ময়দান এলাকায় এমন স্থায়ী কাঠামো রাখা নিয়মবিরুদ্ধ।
সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে সেনার অফিসাররা তৃণমূল নেতৃত্বকে বিষয়টি জানিয়ে দেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা হলেও শেষমেশ কোনও সমঝোতা হয়নি। সেনার তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, নিয়ম ভেঙে মঞ্চ বেঁধে রাখা চলবে না। এরপরেই নিজস্ব উদ্যোগে কাঠামো খোলার কাজ শুরু করে সেনার কর্মীরা।
এই বিষয়টি নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেনার ভূমিকার সমালোচনা করেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, বাংলা ভাষা এবং বাংলাভাষী মানুষের ওপর যে অত্যাচার চলছে তা বিরোধিতা করে ধর্না করছে দল। প্রতি শনি এবং রবিবার তৃণমূলের যুব বা শাখাসংগঠনের সদস্যরা ধর্নায় সামিল হচ্ছেন। কিন্তু সোমবার দেখা গেছে, ধর্মতলায় দলীয় মঞ্চ, ব্যানার খুলে দিচ্ছে সেনা, এটা কাম্য নয়।
কুণাল বলেছেন, ''সেনা নামিয়ে তৃণমূলের কর্মসূচি বন্ধ করার, আন্দোলন ভাঙার চেষ্টা হচ্ছে। কেন্দ্র আর্থিক বঞ্চনা দিয়ে পারেনি, বিজেপি দল পারেনি, কেন্দ্রীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় এজেন্সি পারেনি, এখন তৃণমূলকে ঠেকাতে সেনা নামানো হচ্ছে।'' তৃণমূলের নেতার স্পষ্ট কথা, কোনও ভুল-ত্রুটি হলে তার নির্দিষ্ট নিয়মে খোলা হবে, ডেক্রেটারস খুলবে। সেনা কেন খুলছে, প্রশ্ন কুণালের।
যদিও তৃণমূল সাফ জানিয়েছে, সেনাকে দিয়ে অকারণ সংঘাত তৈরির চেষ্টার প্ররোচনায় পা দেবে না তাঁরা। বরং প্রতিবাদী মঞ্চ গান্ধী মূর্তির পাদদেশ থেকে রানি রাসমণি রোডে নিয়ে আসবে তাঁরা। কারণ ওটা কলকাতা পুলিশের অধীনের এলাকা।