পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উত্তর কলকাতায় মোট ১৯টি মণ্ডপে মাতৃ প্রতিমার অলঙ্কারে পাহারা থাকবে। এই মণ্ডপগুলো রয়েছে চিৎপুর, কাশীপুর, বড়তলা, সিঁথি, আমহার্স্ট স্ট্রিট, টালা ও শ্যামপুকুর-জোড়াবাগান এলাকায়।

প্রতীকী ছবি (এআই নির্মিত)
শেষ আপডেট: 20 October 2025 14:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার কালীপুজো মানেই ঝলমলে আলো, প্রতিমার গয়নার ঐশ্বর্য আর ভক্তির আবহ। সেই আভা আরও বাড়িয়ে তুলছে সোনা-রুপোর অলংকারে সজ্জিত প্রতিমারা (Kali Puja 2025)। তবে গয়নার নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা করছে। শহরের ৪৮টি মণ্ডপে সশস্ত্র পুলিশের পাহারা বসছে। সোমবার থেকেই রাইফেলধারী পুলিশকর্মীরা দায়িত্ব নিয়েছেন প্রতিমার অলংকারের নিরাপত্তা (Kolkata Police security) নিশ্চিত করতে।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতিমার গয়না যতক্ষণ না তুলে নেওয়া হচ্ছে, পুজো থেকে বিসর্জন পর্যন্ত- ওই সময়টায় তিনটি শিফটে গয়না রক্ষার দায়িত্বে থাকবেন দু’জনে করে কনস্টেবল, তাঁদের কাছে থাকবে রাইফেল। কিছু মণ্ডপে থাকবেন অতিরিক্ত একজন করে অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর। পুলিশের মধ্যে রয়েছেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও যারা নিরাপত্তা দেবে।
অনেক মণ্ডপেই ব্যক্তিগতভাবে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে (Kolkata Kali Puja pandals)। কিছু পুজো উদ্যোক্তা নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করেছেন, অনেকে মণ্ডপে গেট বসিয়েছেন। পুজো কর্তৃপক্ষ এবং উদ্যোক্তারা সবাই সতর্ক থেকে গয়নার উপর নিরবিচ্ছিন্ন নজর রাখার চেষ্টা করছেন।
কোন এলাকায় কতগুলি মণ্ডপে পুলিশের পাহারা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উত্তর কলকাতায় মোট ১৯টি মণ্ডপে মাতৃ প্রতিমার অলঙ্কারে পাহারা থাকবে। এই মণ্ডপগুলো রয়েছে চিৎপুর, কাশীপুর, বড়তলা, সিঁথি, আমহার্স্ট স্ট্রিট, টালা ও শ্যামপুকুর-জোড়াবাগান এলাকায়।
দক্ষিণ কলকাতার আলিপুর, নিউ আলিপুর, চেতলা, টালিগঞ্জ এলাকায় প্রতিটি অঞ্চলে আটটিতে পুলিশের নিরাপত্তা রয়েছে। মধ্য কলকাতার মুচিপাড়া, তালতলা, পোস্তা ও গিরিশ পার্কে সাতটি মণ্ডপে বিশেষ পাহারা থাকবে- এদের মধ্যে তালতলায় তিনটি মণ্ডপ রয়েছে। পূর্ব কলকাতার ট্যাংরা ও এন্টালির পাঁচটি মণ্ডপে গয়নার নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণ-পূর্ব কলকাতার বেনিয়াপুকুরেই পাঁচটি মণ্ডপে পুলিশি পাহারা থাকবে। পশ্চিম বন্দর এলাকার একটি মণ্ডপে গয়না রক্ষার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। শহরতলির যাদবপুর, রিজেন্ট পার্ক ও নেতাজি নগরে তিনটি মণ্ডপে সশস্ত্র পুলিশের দল মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও পুজো উদ্যোক্তারা মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ভিড়ের মধ্যে গয়না নিরাপদ রাখতে সামরিক ধরনের নজরদারি জরুরি। তাই রাইফেলধারী পুলিশকর্মী ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা মণ্ডপে বসবেন এবং শিফটভিত্তিকভাবে কাজ করবেন।
এই বিশেষ ব্যবস্থায় পুজো উদ্যোক্তারা আরও সতর্ক। গয়না কোথায় রাখা হচ্ছে, কে কী এনেছেন, সব কিছু লিখে রাখা হচ্ছে তালিকায়। যাতে সব কিছু পরিষ্কার থাকে আর কোনও গরমিল না হয়। দর্শকরাও ভিড়ের মধ্যে নিরাপদে ও স্বচ্ছন্দে পুজো দেখতে পারেন, সেটাই মূল উদ্দেশ্য।