
শেষ আপডেট: 23 January 2024 18:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত শীত থেকে এই শীত। এক বছর হয়ে গেল অনুব্রত মণ্ডল তিহাড় জেলে বন্দি। এরই মধ্যে পুজোর ঠিক আগে বাংলার প্রতি বঞ্চনার প্রতিবাদে দিল্লিতে ধর্না দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সে সময় রাজ্য থেকে বহু নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক, জেলা সভাপতিও গিয়েছিলেন দিল্লিতে। তাঁদের কেউই তিহাড় জেলে গিয়ে অনুব্রতর কুশল সংবাদ জানতে চাননি। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কেষ্ট মণ্ডলকে এভাবে কোনওমতেই বিষ্মৃত হয়ে যেতে দিতে চান না।
মঙ্গলবার কালীঘাটে বীরভূমের নেতাদের বৈঠকে ডেকেছিলেন মমতা। সেই বৈঠকের পর সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, অনুব্রত মণ্ডলের কথা অবশ্যই উঠেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, অনুব্রত সারাজীবন জেলে থাকবে না। সে তাড়াতাড়ি ফিরে আসবেই। ওকে ভুলে যাওয়া চলবে না। দলে ওর অবদান রয়েছে।
শতাব্দীর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেছেন, অনুব্রত যেভাবে সংগঠন সাজিয়েছিলেন, তা পুরো উল্টে পাল্টে দিলে চলবে না। অনুব্রত ফিরে এলে জেলা সংগঠনের যে যে দায়িত্ব পালন করতে, সেগুলোই আবার করবে।
অনুব্রতকে ছাড়া তৃণমূলের বীরভূমের সংগঠন যে আগের মতো নেই তা নিয়ে আলোচনা শাসক দলের মধ্যেই রয়েছে। অনেকের মতে, অনুব্রত ছিলেন সামন্ত প্রভুর মতো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা শুনতেন, আর কারও কথা নয়। এক প্রকার স্বৈরাচারী ব্যবস্থায় জেলায় সংগঠন ধরে রেখেছিলেন তিনি। বিশেষ করে অনুব্রত জমানায় নানুরের কাজল শেখরা টুঁ শব্দ করারও সুযোগ পাননি। তাঁদের কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
কিন্তু অনুব্রত জেলে বন্দি থাকায় এখন অনেকেই গা হাত পা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়াতে চাইছেন। কাজল শেখ জেলা সভাধিপতি। সংগঠনের ব্যাপারে কাজলও ছরি ঘোরাতে শুরু করেছিলেন। কাজলের যা প্রতাপ তাতে অভিজিৎ সিংহর মতো নেতাদের ভরতের মতো অনুব্রতর খড়ম রেখে সংগঠন চালাতেও সমস্যা হচ্ছে।
অনেকের মতে, সম্ভবত এই কারণেই অনুব্রতর ফিরে আসার ব্যাপারে একটা সম্ভাবনার কথা জানিয়ে রাখতে চেয়েছেন মমতা। সেই সঙ্গে কাজল শেখকে সাংগঠনিক কোর কমিটি থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। কোর কমিটি ছোট করে তাতে সদস্যের সংখ্যা ৯ থেকে কমিয়ে ৫ করে দেওয়া হয়েছে।
তবে ইদানীং দেখা যাচ্ছে, এই সব বকাঝকার প্রভাবও যে আড়াই দিনের বেশি থাকছে তা নয়। অনেকেই অকুতোভয় হয়ে ইচ্ছেমতো কাজকর্ম করছেন। যেমন সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের সাংগঠনিক বৈঠকে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে ভালমতো ধমক খেতে হয়। তাঁকে যথাসম্ভব কম কথা বলতে বলা হয়েছে। কিন্তু পরদিনই দেখা যায়, হুমায়ুন জেলায় ফিরে গিয়ে ছর-বেছর নানা কথা বলছেন। এখন দেখার বীরভূমে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক পরিস্থিতি টিকে থাকে কিনা।