শহরে সংক্রমণের খবর না থাকলেও আগাম সতর্কতাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 19 January 2026 23:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিপা ভাইরাস (Nipa Virus) ঘিরে রাজ্যে সতর্কতার আবহ। তার প্রেক্ষিতে কলকাতার আলিপুর চিড়িয়াখানাতেও (Alipore Zoo) বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
সতর্ক আলিপুর চিড়িয়াখানা
শহরে সংক্রমণের খবর না থাকলেও আগাম সতর্কতাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। প্রাণী, কর্মী ও দর্শকদের নিরাপত্তায় কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ তারা। একমাত্র আলিপুর চিড়িয়াখানাতেই যেহেতু বাদুড়ের ডেরা রয়েছে, সেই কারণে প্রাণী ও মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। চিড়িয়াখানার আবাসিক প্রাণীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পাশাপাশি কর্মী ও দর্শকদেরও সচেতন করা হচ্ছে।
চিড়িয়াখানা বাদুরের ডেরা
নিপা একটি ‘জুনোটিক’ ভাইরাস। যা পশুর শরীর থেকে মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত বাদুড়ের মাধ্যমেই এই ভাইরাস সংক্রমিত হয় (Virus)। আলিপুর চিড়িয়াখানার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে বহু বড় গাছ ও ফলের বাগান। সেই ফল খেতে নিয়মিত বাদুড় আসে। এই মুহূর্তে চিড়িয়াখানায় পর্যটনের মরশুম চলছে। প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শকের ভিড়ের সঙ্গে কাজ করছেন বিপুল সংখ্যক কর্মীও। যদিও এখনও কলকাতায় নিপা আক্রান্তের কোনও খবর নেই, তবু আগাম সতর্কতা হিসেবেই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, চিড়িয়াখানায় গাছ প্রচুর। সেখানে বাদুড়ের উপস্থিতিও রয়েছে। কিন্তু অযথা আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কিছু নির্বাচিত প্রাণীর রক্ত পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মী ও দর্শকদের সচেতন করা হচ্ছে যাতে গাছ থেকে পড়ে থাকা ফল স্পর্শ না করা হয়, এবং কেউ যেন পশুপাখির খাঁচায় বাইরে থেকে কোনও খাবার না দিতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাদুড় আধখাওয়া ফল যদি কোনও ভাবে সুস্থ ফলের সঙ্গে মিশে যায়, সেখান থেকেও নিপা সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। চিড়িয়াখানার বহু আবাসিক প্রাণীর খাদ্যতালিকায় ফলের পরিমাণ বেশি। সেগুলি বাইরে থেকে সরবরাহ করা হয়। এ ক্ষেত্রে পশুপাখির জন্য আনা সব ফল ও সবজি পরিবেশনের আগে ভাল করে জল দিয়ে ধোয়ার কথা বলা হয়েছে। তারপরই তা কেটে প্রাণীদের দিতে হবে। নিপা নিয়ে উদ্বেগের আবহে এই প্রক্রিয়া আরও কড়াভাবে মানতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপসর্গ কখন, কী লক্ষণ?
চিকিৎসকদের মতে, ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ৩ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শুরুতে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশির যন্ত্রণা—সবই সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো। কিন্তু হঠাৎ আচ্ছন্ন হয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, পরিচিত মানুষকে চিনতে না পারা—এসব হলে দেরি না করে উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করাতে হবে। মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফেলাইটিস) হলে পরিস্থিতি দ্রুত গুরুতর হয়; শ্বাসকষ্ট থাকলে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকিও বাড়ে।
এখনও পর্যন্ত নিপার কোনও টিকা নেই। তাই দ্রুত রোগ নির্ণয়, আক্রান্তকে আলাদা রাখা এবং সতর্কতাই একমাত্র রক্ষাকবচ।