যেন অদৃশ্য এক নেটওয়ার্ক, যেখানে পরিচয়ের সূত্র একটাই, কলকাতা মেডিকেল ও এইমস।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 17 January 2026 13:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিপা আতঙ্ক ছড়ানোর আগেই নেপথ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন কয়েকজন চিকিৎসক। না কোনও উচ্চকণ্ঠ ঘোষণা, না আলোচনার কেন্দ্রে আসার চেষ্টা, শুধু অভিজ্ঞতা আর সন্দেহের ধারেই ধরা পড়ে যায় বিপদ।
এই লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল ‘দেরি না করা’। আর সেই অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও এইমস দিল্লির প্রাক্তনীরা।
বারাসতের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি তরুণীর উপসর্গ প্রথম দেখেই অস্বস্তিতে পড়েন স্নায়ুরোগ চিকিৎসক ডাঃ অনন্যা দাস। এটি সাধারণ এনসেফেলাইটিসের মতো নয়, মাথার ভিতরে সেই আশঙ্কাই দানা বাঁধে। কলকাতা মেডিকেল কলেজে এমডি পড়ার সময় এবং এইমস দিল্লিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে সাবধান করে দেয়। ঝুঁকি নেননি। সন্দেহের কথা সঙ্গে সঙ্গে জানান তাঁর সিনিয়রকে।
১০ জানুয়ারির সেই ফোনকলেই গল্পের মোড় ঘুরে যায়। ডাঃ সায়ন্তন বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্তমানে এইমস কল্যাণীর সংক্রামক রোগবিদ্যার প্রধান, পরদিনই মাঠে নামেন। ১১ জানুয়ারি দুই নার্সের নমুনা সংগ্রহ করে নিপা কিটে পরীক্ষা। রিপোর্ট পজিটিভ। মুহূর্তে দেশের স্বাস্থ্য মহলে চাঞ্চল্য।
সায়ন্তনের পাশে ছিলেন সিনিয়র রেসিডেন্ট ডাঃ সায়ন মহারত্ন। পুরুলিয়ার এই চিকিৎসকের শিক্ষাজীবনও শুরু হয়েছিল কলকাতা মেডিকেল কলেজে, শেষ এইমস দিল্লিতে। রাজ্য সরকারের বিশেষজ্ঞ দলে যুক্ত পিজির সংক্রামক রোগবিদ্যা বিভাগের প্রধান ডাঃ যোগীরাজ রায়, তাঁর শিক্ষাগত ঠিকানাও একই। যেন অদৃশ্য এক নেটওয়ার্ক, যেখানে পরিচয়ের সূত্র একটাই, কলকাতা মেডিকেল ও এইমস।
এই সমন্বয়ের জোরেই দ্রুত শুরু হয় কনট্যাক্ট ট্রেসিং, পরীক্ষা এবং আইসোলেশন। ফলও মিলেছে। বারাসতের হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, দুই নার্সের সংস্পর্শে আসা সকলের রিপোর্ট নেগেটিভ। ১৯ জানুয়ারি থেকে ইউনিট আবার স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরবে।
এনএইচ গোষ্ঠীর তরফে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। আর ডাঃ অনন্যা দাসের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে স্বস্তি, “এই প্রথম নিপার ক্ষেত্রে একটুও দেরি হয়নি। তাই পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে।”
নিপা মোকাবিলায় এই অধ্যায়ে তাই সামনে এসেছে নতুন এক ছবি, চিকিৎসার মঞ্চে আলো নয়, বরং নীরব প্রস্তুতিই সবচেয়ে বড় শক্তি। আর তার পেছনে কলকাতা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তনীরা!