তৃপ্তি শাহ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বড়দিন ও নতুন বছরে চিড়িয়াখানায় অতিরিক্ত মানুষের ভিড়ও এর বড় কারণ হতে পারে। এই সময় ভিড় অনেকটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রতিবছরই এই সময় চিড়িয়াখানায় পিকনিক করতে দেখা যায় মানুষকে। অথচ চিড়িয়াখানা অত্যন্ত সেনসিটিভ জায়গা। অতিরিক্ত লোকজনের যাতায়াত, পিকনিক আর খেলাধুলা পশুদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।

Alipore Zoo
শেষ আপডেট: 8 January 2026 16:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড়দিন (Christmas) আর নতুন বছর (New Year) মানেই আলিপুর চিড়িয়াখানায় (Alipore Zoo) উপচে পড়া ভিড়। আর সেই ভিড়ই কি এবার কাল হয়ে দাঁড়াল আলিপুরের একমাত্র পুরুষ জলহস্তির (Male Hippopotamus)? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে চিড়িয়াখানা চত্বরে।
এই তো ক’দিন আগেও তাকে এক ঝলক দেখার জন্য ভিড় জমিয়েছিলেন বহু মানুষ। জলহস্তি দেখার উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও তখন সে কাউকেই ঠিকমতো দেখা দেয়নি। জলের মধ্যেই দাঁড়িয়ে ছিল দীর্ঘক্ষণ। আর এখন সেই জলহস্তিকে নিয়েই বাড়ছে চিন্তা। অসুস্থতা, না কি সঙ্গী হারানোর মানসিক ধাক্কা - ঠিক কী কারণে এমন আচরণ, তা নিয়েই ধোঁয়াশায় কর্তৃপক্ষ।
আলিপুর চিড়িয়াখানার একমাত্র পুরুষ জলহস্তি টানা ১৪ দিন ধরে জলাশয়ের মধ্যেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। হঠাৎ কি এমন হল? কেন সে এই অবস্থায়? স্পষ্ট কোনও উত্তর নেই কারও কাছে। পশু চিকিৎসক থেকে শুরু করে চিড়িয়াখানার কর্মীরা সকলেই দুশ্চিন্তায়। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চিকিৎসা। জলহস্তিটিকে আলাদা করে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। চলছে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি।
জলহস্তির বিষয়ে উদ্বিগ্ন আলিপুর চিড়িয়াখানার সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিরেক্টর তৃপ্তি শাহও। দ্য ওয়ালকে তিনি জানান, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওড়িশার নন্দনকানন চিড়িয়াখানা থেকে এই পুরুষ জলহস্তিটিকে আনা হয়। সঙ্গে এসেছিল একটি মেয়ে জলহস্তিও। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে মেয়ে জলহস্তিটির মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এই পুরুষ জলহস্তিটি।
ডিরেক্টরের কথায়, কিছুদিন পরে জলহস্তিটি একটু স্বাভাবিক হলেও বড়দিনের ঠিক আগে থেকেই আচরণে বড় বদল দেখা যায়। ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করছে না, রাতে নাইট শেল্টারেও ফিরছে না।
তৃপ্তি শাহ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বড়দিন ও নতুন বছরে চিড়িয়াখানায় অতিরিক্ত মানুষের ভিড়ও এর বড় কারণ হতে পারে। এই সময় ভিড় অনেকটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রতিবছরই এই সময় চিড়িয়াখানায় পিকনিক করতে দেখা যায় মানুষকে। অথচ চিড়িয়াখানা অত্যন্ত সেনসিটিভ জায়গা। অতিরিক্ত লোকজনের যাতায়াত, পিকনিক আর খেলাধুলা পশুদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
ডিরেক্টর জানিয়েছেন, বহুবার নিয়ম মানার অনুরোধ করা হলেও তাতে কাজ হয়নি। অধিকাংশই পিকনিকের সরঞ্জাম নিয়ে ঢুকে পড়ছে। এর ফলে চিড়িয়াখানার পশু-প্রাণীদের মানসিক ও শারীরিক স্থিতি নষ্ট হচ্ছে বলেই আশঙ্কা তাঁর। আপাতত আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষর লক্ষ্য একটাই, জলহস্তিটিকে দ্রুত সুস্থ করে তোলা।