২০১৬-র বাতিল হওয়া প্যানেলের চাকরিপ্রার্থীরাও আবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। ফলে তাঁরা ফ্রেশারদের তুলনায় ১০ নম্বর বেশি পাচ্ছেন। ফ্রেশার চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, এই নিয়ম তাঁদের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 19 September 2025 13:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের নিয়োগের (Recruitment) দাবিতে পথে নামলেন এসএসসি-র চাকরিপ্রার্থীরা (SSC Job Seekers)। শুক্রবার করুণাময়ী থেকে এসএসসি ভবন (SSC Bhawan) পর্যন্ত মিছিল করে এক লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগের দাবি তুলেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে ফল প্রকাশের দাবিতে পথে নামেন ২০২৩-এর টেট পরীক্ষার্থীরাও (TET)।
রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রতিবাদী চাকরিপ্রার্থীরা বলেন - দশ বছর পর নিয়োগের পরীক্ষা হয়েছে অথচ নতুন প্রার্থীদের পূর্ণ নম্বর পেলেও ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, ইন-সার্ভিস প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার শিক্ষককে ইতিমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তাঁদের দাবি, শূন্যপদের সংখ্যা বাড়িয়ে অন্তত এক লক্ষ করা হোক। আর ইন-সার্ভিস প্রার্থীদের যে অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়া হচ্ছে, তার কোনও সরকারি গেজেটে উল্লেখ নেই। এই অতিরিক্ত সুবিধা বন্ধ করতে হবে।
২০১৬-র বাতিল হওয়া প্যানেলের চাকরিপ্রার্থীরাও আবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। ফলে তাঁরা ফ্রেশারদের তুলনায় ১০ নম্বর বেশি পাচ্ছেন। ফ্রেশার চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, এই নিয়ম তাঁদের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, যাঁরা কয়েক বছর শিক্ষকতা করার পর ফের পরীক্ষায় বসছেন, তাঁদের দাবি, বছরের পর বছর চাকরি করার পরে নতুনদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে র্যাঙ্ক করা কার্যত অসম্ভব।
যদিও টানা নিরাপত্তার মধ্যেই নিরবচ্ছিন্নভাবে দুই দফার এসএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। সব পরীক্ষাকেন্দ্রে ছিল কড়া পুলিশি নজরদারি।
এর আগে, দিন কয়েক আগেই টেট উত্তীর্ণদের একাংশ ৫০ হাজার শূন্যপদে অবিলম্বে নিয়োগের দাবিতে পথে নামেন। হঠাৎ বিধানসভা অভিমুখে মিছিল ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। ধর্মতলা মেট্রো থেকে বেরিয়ে বিধানসভা ভবনের দিকে ছুটে যান বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ তাড়া করলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। কোথাও বচসা, কোথাও কেউ আবার কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এদিকে নতুন করে দু-দফায় যে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে তাতেও দুর্নীতি হতে পারে বলে সন্দেহ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, এই পরীক্ষায় প্রার্থীদের প্রকৃত যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “ওরা সবাইকে পাশ করাতে চাইছে। পাশের হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি হবে। কারণ, ওদের হাতে ১৫ নম্বর রয়েছে। সেই নম্বরকে ঘিরেই হবে নতুন দুর্নীতি (Corruption)। বহু যোগ্য চাকরিপ্রার্থী বঞ্চিত হবেন। যারা অযোগ্য, যারা টাকার বিনিময়ে সুবিধা নিতে পারবে, তারাই চাকরি পাবে।”
অর্থাৎ, নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ফের সামনে আনলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত, শিক্ষাক্ষেত্রে পুরনো কেলেঙ্কারির ছায়া এখনও কাটেনি। শুভেন্দুর মন্তব্যের পর অনেকের আশঙ্কা, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য ফের একবার বড়সড় বিতর্কের মুখে পড়তে পারে।