মিছিল যখন কলকাতা পুরসভার অফিসের সামনে পৌঁছয়, তখনই পুলিশ তাদের পথ আটকে দেয়। এরপর আর এগোতে না পেরে রাস্তাতেই বসে বিক্ষোভে সামিল হন সংগঠনের সদস্যরা।

অবস্থান বিক্ষোভ - ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 October 2025 15:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেতন বৃদ্ধির (Salary Hike) ফাইল অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে - এই দাবিকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার নবান্ন অভিযানের (Nabanna Abhijan) ডাক দেয় ‘সমগ্র শিক্ষা বাঁচাও মঞ্চ’। সেই উদ্দেশ্যে শিয়ালদহ (Sealdah) থেকে মিছিল শুরু করলেও, মাঝপথেই পুলিশ মিছিল আটকে দেয় বলে অভিযোগ সংগঠনের।
দুপুরের পর থেকেই মঞ্চের কর্মীরা ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে শিয়ালদহ থেকে নবান্নমুখী (Nabanna) মিছিল শুরু করেন। তাঁদের প্রধান দাবি, সমগ্র শিক্ষায় কর্মরতদের বেতন বৃদ্ধির ফাইল দ্রুত কার্যকর করা। পাশাপাশি সংগঠন আরও কয়েকটি দাবি তুলে ধরে, সকল শিশুর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে বেসরকারিকরণের হাত থেকে রক্ষা করা, নিয়োগের সঙ্গে সঙ্গেই ইপিএফ চালু করা এবং সমস্ত শূন্যপদে অবিলম্বে নিয়োগ করা।
মিছিল যখন কলকাতা পুরসভার অফিসের (KMC Office) সামনে পৌঁছয়, তখনই পুলিশ তাদের পথ আটকে দেয়। এরপর আর এগোতে না পেরে রাস্তাতেই বসে বিক্ষোভে সামিল হন সংগঠনের সদস্যরা। পুলিশি বাধা সত্ত্বেও দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
কদিন আগে এসএসসি-র চাকরিপ্রার্থীদের মিছিলে উত্তাল হয়েছিল শহর। করুণাময়ী থেকে এসএসসি ভবন (SSC Bhawan) পর্যন্ত মিছিল করে এক লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগের দাবি তুলেছিলেন তাঁরা।
আসলে ২০১৬-র বাতিল হওয়া প্যানেলের চাকরিপ্রার্থীরাও আবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। ফলে তাঁরা ফ্রেশারদের তুলনায় ১০ নম্বর বেশি পাচ্ছেন। ফ্রেশার চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, এই নিয়ম তাঁদের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, যাঁরা কয়েক বছর শিক্ষকতা করার পর ফের পরীক্ষায় বসছেন, তাঁদের দাবি, বছরের পর বছর চাকরি করার পরে নতুনদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে র্যাঙ্ক করা কার্যত অসম্ভব।
তাঁদের দাবি, শূন্যপদের সংখ্যা বাড়িয়ে অন্তত এক লক্ষ করা হোক। আর ইন-সার্ভিস প্রার্থীদের যে অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়া হচ্ছে, তার কোনও সরকারি গেজেটে উল্লেখ নেই। এই অতিরিক্ত সুবিধা বন্ধ করতে হবে।
দিন কয়েক আগে টেট উত্তীর্ণদের একাংশও ৫০ হাজার শূন্যপদে অবিলম্বে নিয়োগের দাবিতে পথে নামেন। হঠাৎ বিধানসভা অভিমুখে মিছিল ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। ধর্মতলা মেট্রো থেকে বেরিয়ে বিধানসভা ভবনের দিকে ছুটে যান বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ তাড়া করলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। কোথাও বচসা, কোথাও কেউ আবার কান্নায় ভেঙে পড়েন।